Thursday, August 20, 2015

ব্লার্ব

পীযূষকান্তি বিশ্বাস দিল্লির বাঙালী কবি । জন্ম ১৫ মে, ১৯৭৫ এ প্রতাপগড় গ্রামে, হাট বহিরগাছি, জেলা নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ , ভারত । পিতা জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের পেশায় কৃষিকর্মী ছিলেন। তিনি অবসর সময়ে গান বাঁধতেন এবং বিভিন্ন আসরে ভক্তগীতি গাইতেন । পীযূষকান্তি বিশ্বাস ছোটবেলা থেকে স্কুলজীবনে লেখালেখি করলেও সেই সব কাজ কোথাও সংগ্রহ করা নেই । তিনি ১৯৯৩ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন । ২০০৫ সালে তিনি বিমানবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে দিয়ে আই-টি ইন্ডাস্ট্রিতে সফটওয়ার ইঞ্জিনীয়ার হিসাবে যোগদান করেন এবং পাকাপাকি ভাবে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন । মোটামুটি ২০১২ সাল নাগাদ তিনি নিয়মিত লেখালেখির মধ্যে আসেন এবং দিল্লি, কলকাতা ও ঢাকার বিভিন্ন পত্র প্রত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে এবং প্রশংসিত হতে থাকে । ২০১৪ এ তার প্রথম কবিতার বই  'ঘুমঘর' দিল্লির বাংলা বইমেলায় প্রকাশিত হয় । কবি পীযূষকান্তি বিশ্বাস কবিতাকে দেখেছেন দিল্লির নজর দিয়ে । একদিকে দেশে রিয়েল এস্টেট বুম, অন্যদিকে খোলা বিশ্ববাজারের শ্রম ও অর্থের একটা কমপ্লেক্স সমীকরন, রুটির নিরাপত্তা থেকে সাহিত্য-স্রোতের বিপরীতমুখী টানে এক অন্য মাত্রার পোস্টমডার্ন বিষয়ভাবনা তার কবিতায় দেখা যায় । আর্থ-রাজনৈতিক উচ্চতা কে ছুঁতে চেয়ে প্রত্যেক কবিতাকে সিঁড়ি করে আকাশ কে সে চ্যালেঞ্জ জানায়, চুম্বন কে আর অধিবাস্তব বলে মনে হয় না তার । ইটস আ রিয়েলিটি ! এই 'আকাশচুম্বন' তার দ্বিতীয় কবিতার বই ।

Sunday, April 19, 2015

আছি

দীর্ঘ একযুগোল পদ ,
খাঁজে খাঁজে রাখি মুখ,
পাতায় পাতায় রাখি সূচ
শিরায় শিরায় কাঁটা
সবুজে সবুজ, বাল্কলে বাল্কলে যাত্রা
আরো অনেক পথ, আরো অনেক ছাই
হায় ! গাছি...
গুড়ের সুবাস উস্কানি দিলে
তাবাল পুড়ে যায় ।

Sunday, February 22, 2015

গুমরাহ -২

গুমরাহ  // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

গুমরাহ রক্তে তখনো এক প্রবাহ
হামাগুড়ি দিয়ে হেঁটে আসে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম
যেখানে কিছু স্রোত তার জীবনকে বাজী রেখে
পিঠপিছে করে সংগ্রামকে আগে ঠেলে দেয়,
হেরে যেতে যেতে শোনা যায় জয়ের উল্লাস
উলটে যেতে রক্তের নাভীমুখী টান,
যেখানে লাল নীল সবুজের কিনারা বরাবর
চরকাকাটা ক্যাসিনোর মতে ঘুরে আসে ঘোলা জল..
কিছুটা বিশ্বাসঘাতকতার মত জেগে ওঠা বালির চর
সবকিছু শোধবোধ করে নেওয়ার পরে হাত ঝেড়ে নেওয়া ।

কিছু রয়ে যায় বালির আচড় তবুও
কিছুটা নখের,  প্রানপনে ছিড়ে নেওয়া দু-একটি কামড়ের অভিজ্ঞতা
গ্রেনেড ফেটে যাবার আগে কোন এক নিস্তব্ধতা
রাষ্ট্রের বিভাজ্যতাকে ধোঁয়ায় মিশিয়ে দিয়ে
চমকে উঠে ভাবি এ এক অ্যাড্রিনালীন স্রোত
কে জিতে গেল এই যুদ্ধ
কাদের লড়াইয়ে আমি ডুবিয়ে দিলাম সমস্ত রাজ্য
এক গঙ্গা রক্ত পার করে
কাদের জন্য আমি রয়ে গেলাম বিজেতাদের দলে
এ কোন স্রোত আমাকে মোহনার দিকে টেনে নিয়ে যায়
কোন সাগরে সে পায় তার প্রাণসঞ্চার ?

হে স্রোত-বালিকা, এই ভাঁটায় তুমি আমার সঙ্গ দেবে নাকি
নাকি আরো উজানে তোমার বয়ে চলা বাকি
নাকি আরো আকাশের গভীরে তোমার মখমলে জরায়ু মেলে
গুছিয়ে নেবে তোমার কিউমুলো-নিম্বাস চুল
কোটি কোটি মেঘের শুঁড়ে জড়িয়ে নেবে
তোমার ছায়াপথ ডিম ?

জানি এ রক্ত তোমার
প্রেমে পড়বে একদিন
জানি এ মৃত্যু তোমার
প্রেমে পড়বে একদিন
জানি, এ প্রেমে তোমার
প্রেমিক জন্ম হবে একদিন ।