Thursday, October 24, 2013

স্ট্যাচু -৪

স্ট্যাচু -৪

আমার পাথুরে চোখে ঠিকরে আসে রাত্রির চোখে দেখা নিয়নের আলো, কিংবা সি এফ এল হবে
সম্পর্কটা আবছায়ার,  প্রতিদিনের প্রেমিক দিনটা সেই বস্তুটা ঢুকিয়ে দিল রাত্রির গর্ভে
রাত এখন প্রিয়তমা গর্ভবতী হবে, জেব্রা লাইনে দাঁড়িয়ে সবুজ, হলুদ , লাল রঙের ব্যস্ততা
গলি মুখে মগরীবের আযান, মসজিদের চুড়া থেকে কেউ যেন মেপে যায় আমার ছায়ার উচ্চতা
দুপায়ে গলিয়ে লৌহসজ্জা, সন্ধ্যার অবনমনে দাঁড়িয়ে প্রস্তরীভুত আমি পৃথিবীর পরাজিত সেনা
ভাড়ার ট্যাক্সিতে চৌরাস্তায় আমার বংশধর , দুচোখে জিজ্ঞাসা যার উত্তর এ শহর কোনদিন খুঁজবেনা
খাদ্য খাদকের মেনুতে আজ রদ-বদল হবে, সুনিপুণ শিকারিরা লাল তান্দুরে আজ শিকার পোড়াবে
তারপর অনেক অন্ধকারে, নক্ষত্রেরা আমার মাথার উপরে পাত পেড়ে লাইন দিয়ে নামাজ পড়ে যাবে ।

ধুলোভর্তি চোখে যেটুকু রাজপথ দেখি, ফুটপাত আর রাস্তার মাঝে দশ রুপিয়াকা রেখা   
যাদের নাম আমার বুক পকেটে কাগজের ভাঁজে লিস্ট করা আছে, নামের পাশে 'বি পি এল' লেখা
ওদের দলে দলে যোগদান আর হরিবোল খৈ খেয়ে দিব্বি বেশ বাড়াচ্ছি মেদ এইভাবে
বৃষ্টিহীন বহুদিন,  আরো রাত্রে, মহাকর্ষজ ত্বরন এসে আমার ঠোঁটে, মুখে  মুত্র ত্যাগ করে যাবে, 
টুপিতে জমেছে নোংরা , হয়তো উঁকুন পেতেছে পরিপাটি সংসার, রুজু হয় নাই
আমার হৃদপিন্ডের অলিন্দে কেন কম্পন নাই, আল্লাহ  যেন মাফ না করেন আমায়
শুধু রাত্রের ঝলমলে লালসা নিয়ে দৌড়ে চলি শহরের এক কিনারা থেকে অন্য কিনারায়  ।

চাল





চাল

চাল ফুরিয়েছে ঘরে
অথচ চাল অনেক, রকমারি আর
তেমনই ক্ষুরধার জিহ্‌বা
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে এ কি দেখি ?
বাঘা তেঁতুল !!

স্ট্যাচু- ৩


স্ট্যাচু- ৩

ব্যারিকেডে ঘেরা চৌরাস্তা,  ডানায় ঝাপটে ফেলে রাতের নিস্তব্ধতা , ভোরের রানার
ছাই রঙা এক কাক এসে সদর্পে জানিয়ে দিয়ে গেল,  সূর্য উঠবে না, ছুটি আজ  তার
সিক রিপোর্ট করেছে সে, মেডিকেল চেক-আপ, কিছু আবশ্যিক রক্ত পরীক্ষা  ল্যাবে ,
শহরের নোনা ধরা বায়ুতে এসেছে নতুন কোনো ভাইরাস; কিংবা ব্যাকটেরিয়া হবে
কুঁয়াষার অগ্নাশয়ে, শীতের  ক্ষুদ্রান্তে চেপে বসেছে তাদের কলোনী, নাছোড় বান্দা , ছাড়ছে না
কোন অ্যান্টিবায়োটিক  জমির  ক্ষতচিহ্ন কে রক্তখোর এই মাছিদের আলাদা করতে পারছে না
এমনি তে সূর্যের কামাই হয়না, বিষুবরেখা বরাবর ছুটে যাওয়া তার, কোনদিন হয় না লেট
কোন বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট, বোনাস ছাড়াই, বাজারে খেটে খাওয়া এক ক্যালোরি প্যাকেট ।


রোগ-যন্ত্রনা তেমন নেই সূর্যের , লাগেনা কোন এনাস্থেটিক, আগুনের ক্ষত এমনিতে ভরে যায়
শুধু  রক্ত রাঙা লাল রশ্মিটা ঈষৎ হলুদ হয়ে গেলে, পৃথিবীতে কান্নার রোল পড়ে যায়
আকাশের নক্ষত্র গুলি, বাস্তু ছাড়া, ভিটেমাটি ছাড়া এই পরিবারকে অনাথ করে দিলে
অলিতে, গলিতে, ল্যাম্প পোষ্টে পোষ্টার চাপায় আলোকের শীর্ণ বুভুক্ষ শাবকেরা মিলে
পুরানো চুন-খসা ইটের উপর নখ আঁচড়ায়; ওদের চোখগুলি নিষ্পাপ বেশ ডাগর ডাগর,
আমার পাথুরে চোখে ওরা পলক মেলায়, যেন ওরা এসে আমার ভ্রুর নিচে আশ্রয় চায় ,
আমি পলক ফেলতে পারি না, পাছে ওদের ২৪ বাই ৭ জীবন আয়না হয়ে যায় । 

স্ট্যাচু- ২

স্ট্যাচু- ২

পায়ে অ্যাংকলেট বুট , হাতে লাগাম, ঘোড়ার পিঠে সওয়ার, ফুটপাত থেকে কিছু দূরে
রৌদ্রের বাঁধভাঙা স্রোতের প্রবাহে বালির মত চকমকি ঘুরপাক কিছু চলে আসে উড়ে
পদচারী মানুষের মত কিছু কথাকলির ঢল, গলিমুখে জড়াজড়ি বুদবুদের উন্মাদনা আর
বাষ্প হয়ে যাওয়া,  পাথুরে চোখটা অবনমন করে দেখি, আমার গলায় গণতান্ত্রিক হার
কারা বেঁধে দিয়ে গেছে এক দড়ির প্রান্ত আর তাতে ঝুলে আছে নির্বাচনী প্রস্তাবনা.
কারো বোধহয় মৃত্যু হয়নি আজ ,  কা কা কা  আজ আর আমি কোন কাক দেখিনা,
শুধু দেখি কিছু ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ জঞ্জাল জড়ো হয়ে আসে আমার ঘোড়ার খুরের উপরে
তারা কাচু-মাচু হয়ে একে অপরের দিকে তাকায় আর শুধু আমার পা টেনে ধরে

প্রতিরক্ষা যুদ্ধের কাছে সাম্রাজ্যবাদীরা এখনো নোয়ায়নি মাথা
অন্তর্জাল জুড়েছে  এক সামাজিক বন্ধন, পাছে লড়ে হেরে যায় কৃত্রিম কবিতার খাতা
ইথার তরঙ্গ থেকে নেমে আসে বুঝি  কোন সাংকেতিক মহাকাশচারী যাদুকর ম্যানড্রেক
আমার ধমনীতে তারা বয়ে আনে আড্রেনালিন, পাকস্থলিতে কোন  রাঙা প্রজাপতি এক
বাতাসে রক্তের চাপ, শর্করা বাড়ছে রক্তে, মুঠি শিথিল হয়ে এই বুঝি ছুটে যায় বল্গা
বাতাসে অক্সিজেনের গন্ধ, আঙ্গুলে শির শির, উপেক্ষা করে ঝড় ঝঞ্ঝা  প্রাকৃতিক দুর্যোগ
কানের ফোকরে পেড়ে রাখা পাখিদম্পতির ডিমে নিষ্প্রাণ শহরে আনছে প্রান-সংযোগ ।

Wednesday, October 23, 2013

কাঁটা তার


কাঁটা তার

কাঁটা তারের কিছু কথা, খদ্দরের
রেশমি চাদরের
দেশি ভালোবাসার হাওয়া 
দুনৌকায় তুলেছে সংসার ।

একটা শোয়ার ঘর, একটা রান্নার
শোয়ার টা বাতানুকুল,
রান্না ঘরে গরম হচ্ছে তেল, জল, স্রোত...

বেগুনি, রেশমি শব্দমায়াগুলো পাখনা মেলছে 
ব্যালকনিতে রৌদ্রের সমুদ্র
সাঁতার কাটবে বলে বেগুনি ডুবুরি

যেই মারল ঝাঁপ
জাঙ্গিয়াতে বেঁধে যায় কাঁটাতার
পায়ে জড়িয়ে যায় শান্তিপুরি তাঁত ।



Sunday, October 20, 2013

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

থকথকে অন্ধকারে ভোরের আলোক মুছে
প্রতিদিনের পথ চলা কর্পোরেট ট্যুর
বিশ্ববাতায়নের যান্ত্রিক বিস্তারে
কখন যে যাতাকলে পিষ্ট দুপুর

যমুনার বাঁকা ঢেউয়ে চুপিসাড়ে লুকায়ে মুখ
কালিমুখে অপরাধী সুনীল গগন
এ যেন অন্য স্বাদের, অনন্য সময় স্রোত,
এ যেন অন্য চেতনা এক, অন্য জীবন

মহামানবের সাগর, নেমেছে মানুষের ঢল,
প্রাচ্যের প্রাচীরে সঙ্গীত প্রচুর
অসংখ্য শব্দ ভীড়েও তার গীত  ছায়া হয়ে
গুঞ্জে চলেছে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ।

গদ্য পদ্য শতপথ করছে হৃদয় ভ্রমন
সৌন্দর্য্য মথিত সুর সহস্ররুপা
শত শতাব্দী জুড়ে পথিকের আনাগোনা
প্রাচ্য পাশ্চাত্য হেঁটে ক্লান্ত দুপা

চলেছি আজো সেই সময়ের ডানায় ভর
কখনো বিমান বা কখনও রকেট
সাত সাগর তের নদী, বৈদ্যুতিক মাধ্যম
চার দেওয়ালে এসে, ঝাঁকে ইন্টারনেট

২৪ বাই ৭,  অষ্টপ্রহর অফিস
প্রতিরহ গুনছে হিসাব ভুলচুক
দিবা রাত্রি প্রতিদিন, হাটে মাঠে সঙ্গীন
সংসারের ধারাপাত, পড়ে ফেসবুক

ছোটে চাকা আকা বাঁকা , রাজপথে ইঁদুর দৌড়
পদে পদে অংক, আজ, হিসাবী জনতা
কাল চক্রে পৃথী,  জটিল অর্থনীতি
বাজারের মুল্যে এখন সস্তা কবিতা ।

জীবনের ছবি খুঁজি , ময়না পাড়ার মাঠ
শ্যাওলা জমা ঘাট আর দীঘি-পুকুর
এক মুখ দাড়ি নিয়ে, তখনো দেওয়াল এটে
দাঁড়িয়ে থাকে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ।

স্ট্যাচু - ১

স্ট্যাচু- ১

আমি এক স্ট্যাচু, পায়ে অ্যাংকলেট বুট , গায়ে আসফল্টের জামা,  জিন পেতে বসে ঘোড়ায় সওয়ার,
পায়ে আটকে থাকে ফুটপাতের কম্পন, আমি টের পাই এক অভিকেন্দ্রিক টান,  মোড়ে পাঁচমাথার
ঘুরছে কিছু চাকা, বুকের উপরে এপিঠ ওপিঠ, জিরো থেকে তিনশ উন-ষাট, আপন বুকের উপর
ঘুর্ণনে সম্পূর্ণ তার ব্রম্মান্ড ভ্রমন, নিজেরই পদদলনে বন্ধুর বুক, আজ ফুটেছে এক আধুনিক শহর !
আনুভব করি তার শব্দের মুখে মুখে মানুষের পিতামহ, প্রপিতামহগণদের সাথে হেঁটে যাই শব্দবিহীন
বাতাসের স্বচ্ছ ধুলিকণায়, সেই সব ধ্বনি কণা, অণু-পরমাণুদের সাথে  আমার সংলাপ সারাদিন
সুসজ্জিত লাস্যময়ী যুবতী সন্ধ্যায়, কিংবা রাতজাগা রক্তচক্ষু ক্লান্ত ভোরবেলাদের গাঁথা
আমি সেই কথোপকথনের কপালে হাত বুলায়, কান ধরে টানি তাদের, আর উঠে আসে মাথা ।

তেলহীন  সেই সব মাথারা আমার আঙুল বেঁকিয়ে নিয়ে মননে তোলায় এক পারমানবিক ঘি
জ্যামিতির অংক হয়ে বাটির তলাথকে আকাঙ্ক্ষার কঠিন এক উপপাদ্য আমি নিয়ে এসেছি
নীচে, আরও গভীরে, তারা অজস্র অন্ধকারের গন্ধ, শহরের গিজ গিজ আলো, রাত, দিন মাঠে
ভিড়ের বাসে, রেলের কামরায়,  শনি- বুধ বাজার, গংগার দুপাড়ে আঁশটে শ্যাঁওলা জমা ঘাটে
ওদের ভাষা, চাহনি, ক্ষুধা, জ্যোৎস্নায় রাত্রিজুড়ে দেখা সোনালি আপ্লুত আর যৎ অযাচিত  স্বপ্ন
আমার পাদদেশে জমে থাকে  বা পুষ্পস্তবকে শুকিয়ে কখন যে তারা বাষ্প হয় বাতাসের অভ্যন্তরে
আঙুলের গন্ধ শুঁকি, তারা, আমার পাথুরে চোখের পাতায় মেঘ হয়ে, জমে থাকে স্তরে স্তরে ।