Friday, January 31, 2014

দিল্লি


দিল্লি

আরো একটু কাছে এসো সবুজ পাতা
মাটির আরো কাছে , লোধি গার্ডেনের উঠানে,
যেখানে সুলতানী সিপাহীদের তারুন্যের গন্ধ এখনও মুচ মুচ,
হাতের উপরে মেলে দিয়ে শাখা প্রশাখায়
সারিবদ্ধ  কুচকাওয়াজের হেঁটে যাওয়া পথে
ভাগ্য লেখো তোমার ।

এই ইন্দ্রপ্রস্থ ,
তরাইন থেকে হেঁটে আসা মোহাম্মদ ঘুরীর তাজা ধুলোছাপ
চুন বালি-শ্যাওলার খাঁজে খাঁজে ভাঙ্গাচোরা ইঁটে ইঁটে এখনো সফদরজংগ,
ইলতুতমীসের  প্রস্তর শহরে করছে  প্রাণ সঞ্চার ।

চৈত্র বসন্তের কর্কশ প্রান্তরে যুদ্ধসজ্জায় সদ্দ্য যুবক বুকে তুঘলকাবাদ
দেখ, ঐ উঁকি মারে বহুদিন ধরে পিপাসিত পোড়ামাটির কুতুব মিনার
ওখানে ছুইয়ে দাও তোমার রক্তিম ঠোট
দেখবে রাত্রির আকাশ তোমাকে দিয়েছে এক রাশ লাজুক জানালা ।

বাবরের যে অহংকার আন্দোলিত করেছিল  পানিপথের ঢেউখেলা সুগন্ধী বুক,
প্রেমিকের দৃষ্টিতে ইতিহাস নিক্ষেপ করলে কালিন্দীকুঞ্জের পাড় ধুয়ে যায়
জেগে থাকে এক পলক অশ্বারোহী বালক রাজকুমার,
স্রোতবাহী যে যমুনা বয়ে নিয়ে এসেছে তার নিকাহ প্রস্তাব
সেই হুমায়ুন টম্বে কবুল করো তোমার রজনীগন্ধা শরীর  ।

দেখবে
পুরানা কিলার বৃদ্ধা আঁধার প্রস্তরীভূত হয়ে উঠেছে কবুতরের ডানা
বিকেলের মেদ হয়ে জমে আছে রাঙা টিউলিপের পরাগে পরাগে
লেকের কলমীর গন্ধে ভরা জলে ভেসে ভেসে
সাদা সাদা ইতিহাস রা পেড়ে গেছে নিষিক্ত ডিম ...
আর পাহারায় পাহারায় রাজপথে রাত্রি জাগা জোনাকিরা
পায়ে পায়ে মার্চে ভ্রমরা হয়ে গেছে ।

Thursday, January 30, 2014

সিগনালের রং

 সিগনালের রং

রাষ্ট্রপতি ভবনের সবুজ বাগিচাটা এই শীতে হলুদ হয়ে যাবে
ট্রাফিক সিগনালে তখনো বসন্তেরা সাদা মাটা জেব্রা ক্রসিংয়ের কাছে
একটাকা দুটাকার কয়েনে মেপে যাবে সেনসেক্স রেখা
সামনেই স্টপ,
দাঁড়িয়ে আছে ইগারা মুর্তির রেড লাইট
পুর্ব দিক বরাবর ফুটপাত ধরে পায়ে হেঁটে গেলে আরো একটা মোড়
সামনে ঘুরে আসে বর্শাহাতে দাঁড়ানো  তিনমুর্তি

(বাকি আটটি মুর্তি বাষ্পীভুত হয়ে হাওয়ায় মিশে গেলে
কামানের আওয়াজে সালামি নেয় দিল্লি )

আশ্চার্য,
দুটি রেড লাইটের মাঝখানে
একটা মাত্র পুলিশ ফাঁড়ি তখনো গুনতে থাকে প্রহর ...

Monday, January 13, 2014

ধুসর স্লোগান

ধুসর স্লোগান // পীযূষকান্তি বিশ্বাস 

অথচ কথা ছিল
এক আকাশ ভেজা ধান ক্ষেত
রোমে রোমে জলের উৎসব
নিজ নিজ ক্যানভাসে
আঁকব শ্রাবণ ,

ঘরে ঘরে নবান্নের ঘ্রান
বিচালির ছাউনিতে ও
ধরা পড়ে চূর্ণির জীবন 
স্রোত

পাড় ভাঙা উচ্ছাস
পাল তোলা নৌকার সাথে
ঢেউ তোলা নদী

সামনে জমে আজ যখন
একটি একটি অক্ষরে
অনেকটা কাল বৈশাখী অন্ধকার

বিদ্যুৎবাহী মেঘও তবু প্রবল বর্ষণে  
ছাতা হাতে নিয়ে আসে 
আটকে রাখতে চায় নিজ নিজ স্রোত

সেই সময়
অসংখ্য বিপ্লবীদের মিছিলে
ধুসর হয়ে যায় স্লোগান

ধুলো হয়ে উড়ে যায়
গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথ... 

Saturday, January 11, 2014

অনেক বৃষ্টি

অনেক বৃষ্টি // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
সদ্য চষা ঢেলায় আনে ধোঁয়া
বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
বাজারে বাজারে আনছে আগুন

বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
ভিজে যাচ্ছি না কেউ
ফ্লাটের ছাদে নেড়ে দেওয়া 
পাঁচ শো, হাজার টাকার বান্ডিল

বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
গ্রাম থেকে শহরে
কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে স্রোত
জলের দরে তারা

ঝরে চলেছে প্রবাহ সজ্জায় , বুকে,  পিঠে, বগলে
ওরা মার্চ করে চলেছে
ঘর্মের কণায় কণায়



১১ -১০- ২০১৩
মহাভীর এনক্লেভ

সরল সমীকরণ

সরল সমীকরণ // পীযূষকান্তি বিশ্বাস 

মায়ের গর্ভের মধ্যেই কেউ যদি আমার পাছাতে 
অতি উচ্চশ্রেণীর শব্দাংগ ঠেসে ধরে 
কি জন্ম নেব আমি ?  মুসলমান আঁত
নাকি হিন্দুর পাত ?

মুসলমানের  ঘরে জন্ম নেওয়া কোন পাপ নয়
হিন্দুর ঘরে জন্ম নেওয়াও কোন গর্বের পরিভাষা নয়
তবে কী নিয়ে লিখব এই কবিতা ?

পাপ ? গর্ব ? না জন্ম ?

আড়ালে পাপ করে নিতে পারলে জন্ম হতে পারে গর্বের
গর্বের অন্ধকারে জটলা পাকিয়ে সদর্পে জন্ম নিতে পারে পাপ
মৃত্যুরাও  জন্ম নিতে পারে জ্যামিতির এক্সট্রা উপপাদ্যে...

Thursday, January 2, 2014

একাকী শীতের রাত - ২

একাকী শীতের রাত - ২ // পী্যূষকান্তি বিশ্বাস

এই রাত্রিগুলো আমার বয়ঃসন্ধি দিন ও
মাঠের পর মাঠ এঁকে চলেছি হলুদবরণ শাড়ীতে সবুজ সরিষা-ক্ষেত
বিকেলের রোদও মুছতে পারছে না আমায় ,
গ্রাস করে নিতে পারছে না আমায় কোন দ্রুতপদগতি মৌলোভী অন্ধকার ।

আমায় এই শৈত্য-রাত্রি-আবাসন থেকে টেনে বের নিয়ে যেতে হলে
খুঁজে আনতে হবে একশ আট ডেসিবেল ধুন্ধুমার হুক্কাবার
কয়ারগাছির মরা গাঙের পদ্মনালীর সুগন্ধমাখা সেই কিশোরী চোখ
পৌষের ঘুম ভাঙা খেজুর গাছের বায়বীয় রসময় দিন,
যতক্ষণ না মাটির দেওয়াল থেকে ছিড়ে বেরিয়ে আসে
বাউলের একতারা মেঠো সুর,
যতক্ষন না আমার ফাল্গুনের প্রিয়তম রাত্রিগুলির সেইসব গাছকাটা বুকের
ঘাম মুছে দেয় কেউ।

এরা আর অক্ষর হয়ে হাঁটে না খবরের কাগজের কোন শিরোনামে ।

একলা কবিতাগুলি পড়ে থাক সড়ক-পার ঘুম অন্ধকারে
যে নয়ানজুলিতে ফেলে এসেছি আমি অনেক দিনের অতীত
চাওয়া আর না চাওয়ার শীত মরশুম ।

নতুন দিল্লি
২ জানুয়ারী, ২০১৪


Wednesday, January 1, 2014

একাকী শীতের রাত -১

একাকী শীতের রাত  - ১ //  পী্যূষকান্তি বিশ্বাস

আজ আমি আর একা নই ঘরে,
দরজায় খিল
তোষকে শরীর এলিয়ে শীতগুলো বাড়িয়ে রেখেছে ধোঁয়াটে ঠোট
বাইরে
ঘন কালো অন্ধকারের পাহারা
আকাশ থেকে নেমে আসা
সর্বগ্রাসী মিটমিট নক্ষত্রেরা কেড়ে নিতে চায় শারিরিক ওম ।

আমি টের পাই বৈদ্যুতিক দৈহিক প্রেম
ধমনীতে প্রতিটা লোহিত রক্তকণায় চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতি
জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সুরক্ষা বলয় ।

এ রাজ্য আমার,
এ দেশ আমার
সোনার কিংবা আরো মুল্যবান কিছু
কিছুতেই এ নয় মধ্যরাতের আবছায়ায় জেগে থাকা ল্যাম্প-পোষ্ট
কিছুতেই এ নয় আধাঘুমের একাকী বালিশ-সাহিত্য
প্রেম-ভিক্ষা-পাত্র ।

বরং,
ব্যস্ত পেট্রোল পাম্প আর অগ্নি সম্ভবা দাহ্য কিছু
প্রতিদিন ঘরে ফেরা নিজস্ব ঘর-বিশ্বাস
তিলে তিলে গড়ে ওঠা স্বপ্ন-সাম্রাজ্য
একটি একটি অক্ষরে আটকে থাকা মহাকর্ষ সূত্র ।

নতুন দিল্লি
১ জানুয়ারী, ২০১৪