দিল্লি
আরো একটু কাছে এসো সবুজ পাতা
মাটির আরো কাছে , লোধি গার্ডেনের উঠানে,
যেখানে সুলতানী সিপাহীদের তারুন্যের গন্ধ এখনও মুচ মুচ,
হাতের উপরে মেলে দিয়ে শাখা প্রশাখায়
সারিবদ্ধ কুচকাওয়াজের হেঁটে যাওয়া পথে
ভাগ্য লেখো তোমার ।
এই ইন্দ্রপ্রস্থ ,
তরাইন থেকে হেঁটে আসা মোহাম্মদ ঘুরীর তাজা ধুলোছাপ
চুন বালি-শ্যাওলার খাঁজে খাঁজে ভাঙ্গাচোরা ইঁটে ইঁটে এখনো সফদরজংগ,
ইলতুতমীসের প্রস্তর শহরে করছে প্রাণ সঞ্চার ।
চৈত্র বসন্তের কর্কশ প্রান্তরে যুদ্ধসজ্জায় সদ্দ্য যুবক বুকে তুঘলকাবাদ
দেখ, ঐ উঁকি মারে বহুদিন ধরে পিপাসিত পোড়ামাটির কুতুব মিনার
ওখানে ছুইয়ে দাও তোমার রক্তিম ঠোট
দেখবে রাত্রির আকাশ তোমাকে দিয়েছে এক রাশ লাজুক জানালা ।
বাবরের যে অহংকার আন্দোলিত করেছিল পানিপথের ঢেউখেলা সুগন্ধী বুক,
প্রেমিকের দৃষ্টিতে ইতিহাস নিক্ষেপ করলে কালিন্দীকুঞ্জের পাড় ধুয়ে যায়
জেগে থাকে এক পলক অশ্বারোহী বালক রাজকুমার,
স্রোতবাহী যে যমুনা বয়ে নিয়ে এসেছে তার নিকাহ প্রস্তাব
সেই হুমায়ুন টম্বে কবুল করো তোমার রজনীগন্ধা শরীর ।দেখবে
পুরানা কিলার বৃদ্ধা আঁধার প্রস্তরীভূত হয়ে উঠেছে কবুতরের ডানা
বিকেলের মেদ হয়ে জমে আছে রাঙা টিউলিপের পরাগে পরাগে
লেকের কলমীর গন্ধে ভরা জলে ভেসে ভেসে
সাদা সাদা ইতিহাস রা পেড়ে গেছে নিষিক্ত ডিম ...
আর পাহারায় পাহারায় রাজপথে রাত্রি জাগা জোনাকিরা
পায়ে পায়ে মার্চে ভ্রমরা হয়ে গেছে ।
No comments :
Post a Comment
Note: Only a member of this blog may post a comment.