Monday, December 30, 2013

এক পাতার কবিতা

এক পাতার কবিতা // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

ওরা বললেন , রক্ত দাও
বললেন, দিল্লি চলো,  স্বাধীনতা দেব ।

এই যে ইন্ডিয়া গেট
আমার দীর্ঘ ছায়া বিকেল গড়িয়ে
আছড়ে পড়ে সন্ধ্যায়
অমর জ্যোতি জওয়ান ।

দুবাহু দুদিকে
নর্থ - সাউথ ব্লক
দেওয়াল জুড়ে ক্ষেত্রফল
মুখস্থ পিথাগোরাসের উপপাদ্য

আঙুলগুলো কেন যে আটকে যায় বারবার
টেবিলে, চেয়ারে
পাশাপাশি, উপর নীচ পেন্সিলে
সমকোনী ত্রিভুজে...


খাতা ছিড়ে বেরিয়ে যায়
এক পাতার কবিতা

Friday, December 27, 2013

কার্টুনের চরিত্র

কার্টুনের চরিত্র / পীযূষকান্তি বিশ্বাস

দীর্ঘশ্বাস নিয়ে একবার অনুভব করে দেখলে
মনে হয়
আমার মাঝেও লুকিয়ে অনেক সৌন্দর্য, চিকনাই
তপ্তবুকে সিক্স-প্যাক
খাইবার গিরিপথ ধরে মার্চ করে আসা
সু-কঠিন মেদহীন জংঘা

অথচ
এই নদির ঢেউ তোলা শরীরে
সাঁতার কাটতে গেলে,
পা টেনে ধরে এক অজানা ঘুর্ণি স্রোত
প্যারেড গ্রাউণ্ড বরাবর হেঁটে যাওয়া
সামরিক কুচকাওয়াজ কখনই মোহন বাশীতে
পা মেলাতে পারেনা

তবুও মাঝে মাঝে করে নিই কদম-বদল
E M I জমা দিয়ে কিনে আনি
L-E-D, ভালোলাগা ডিস এনটেনা, লো করলো বাত ।

এই যে শুনছ ?

টিভির রিমোটটা কেড়ে নিচ্ছ আমার হাত থেকে
আর আমি
চ্যানেল থেকে চ্যানেলে
দৌড়াতে দৌড়াতে
কার্টুনের চরিত্র হয়ে যাচ্ছি ।


১১ -১১- ২০১৩
মহাভীর এনক্লেভ

নববর্ষের প্রথম দিন

নববর্ষের প্রথম দিন // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
সদ্য চষা ঢেলায় আনে ধোঁয়া
বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
বাজারে বাজারে আনছে আগুন

বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
ভিজে যাচ্ছি না কেউ
ফ্লাটের ছাদে নেড়ে দেওয়া 
পাঁচ শো, হাজার টাকার বান্ডিল

বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
গ্রাম থেকে শহরে
কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে স্রোত
জলের দরে তারা

ঝরে চলেছে প্রবাহ সজ্জায় , বুকে, পিঠে, বগলে
ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী
বিদায়ী থেকে নতুন
পাঁচ তারা দিন থেকে কল সেন্টার রাত
ঘর্মের কণায় কণায় ।

পহেলা জানুয়ারী...
চড়ুইভাতি দিন নদি হয়ে যায় ।




প্রাতঃভ্রমন

প্রাতঃভ্রমন || পীযুষকান্তি বিশ্বাস

কতটা পথ চললে পথিক হওয়া যায়
আর কতটা পেছনে চললে দেওয়াল আসে ?
পায়ে অনেক পথ
পিছনটা কাছে তাই, মার্চ করে এসে
দেওয়ালেই ঠেকালাম পিঠ

আমার রক্তে টহল দিচ্ছে বেল্টধারী সশস্ত্র লোহিত রক্তকণা ,
গলিমুখে মেদ, হৃদয়ের অলিন্দে কোলেস্টরলের জটলা
কারা ভাঙছে অনবরত ট্রাক, লরি, বাস, দোকানের কাঁচ
জ্বালাচ্ছে সরকারি খাতাপত্র
আর মাইকে উগরাচ্ছে গলিত লাভা
রাত্রিজাগা পথকে এঁকে নিচ্ছে পিচুটি
রেটিনার স্থির মানচিত্রে

ঘুম থেকে উঠে
ভোরের হাওয়ায় হেঁটেই দেখিনি অনেকদিন


১৫ -১০- ২০১৩
মহাভীর এনক্লেভ

Thursday, November 7, 2013

আইন কি হবে

নারী ও পুরুষ , এদের জন্য কোন আইনের কোন বৈষম্য থাকা উচিত কি ? উত্তর বলবেনা, কিন্তু এটা এখন কার সময় স্রোত বলছে। মানুষের স্রোত যেখানে নিচু জমি পেয়েছে সেদিকেই বয়েছে, আজ কিছু লোকের মনে হল, স্রোত টা পাল্টানো দরকার, তারা আওয়াজ উঠিয়েছে কি করে নিচু জমি উচু করা যায়...কিন্তু  এতে তেমন কোনো ফল লাভের আশায় নাই, উচু নিচু চিরকাল থাকবে, শুধু ঠিক করা
দরকার, কার কি কর্তব্য...লিখিত ভাবে, এ দেশে তিনটে নিয়ম চলছে,

১। ধার্মিক - যেটা লিখিত আকারে পাওয়া যায়, কিন্তু তা বহু যুগ আগে লেখা, এবং তা পালটানো যাবে না।

২। রাষ্ট্র-সংবিধান, অল্প কিছু আইন প্রনয়ন করা সম্ভব হয়েছে যা রাষ্ট্র তার নিজের অস্তিত্বের জন্য বানিয়েছে । এর বাইরে যে সব আইন কানুন রয়েছে, তা আবার সামাজিক বা মানবতার ( ২ নং ) দিয়ে বিচার করা হয় ।

৩। সামাজিক - এটা লেখা হয়নি কখনো, ধর্মগ্রন্থের সীমাবদ্ধতার কারনেই হয়ত এ রকম বহু আইন কানুন আমাদের সমাজে চলে আসছে। এ সব কোন বিদ্যালয়ের পাঠ্য স্থান পায় নি, তাই এই সব অনুমানের উপর নির্ভশীলযে যেমন পারে তার ব্যাখ্যা করে নিজের মত করে চালায়, বেশির ভাগ মানুষের নিত্য দৈনুন্দিন গতিবিধি ( বিবাহ, সংসার ইত্যাদি) এই নিয়মে চলে। অনেকে এই নিয়ম কে মানবতা ও বলেন ।


প্রশ্ন হচ্ছে, কোন নিয়ম টা কি ভাবে পালিত হচ্ছে ?
১। ধর্ম মানা টা বা না মানা কোন বাধ্যতামুলকতা নেই, কেউ কন্ট্রোল করতে গেলে সে তালিবান হয়ে যাবে, কিন্তু এই আইন ছাড়া জীবন যাপনের অধিকাংশ কার্যই নিঃসাড়। অথচ১০০ % পুজো ঐ মতে হচ্ছে, ১০০% নামাজ ও ঐ মতে পড়া হয় । ৯০ % (এক টু ঢিল মারতে হল, সার্ভে করিনি) বিবাহ ঐ
মতে হচ্ছে, আর সন্তান জন্মাচ্ছে সেই বিয়েতে। 

২। রাষ্ট্রের নিয়ম আদালতে মান্য হয়, এই নিয়ম উলঙ্ঘনে অর্থ জরিমানা, জেল বা মৃত্যুদন্ড হয় । আমরা নিয়ম কানুন বলে এই রাষ্ট্র আইন কে বুঝি কারন, এটা কে রক্ষনাবেক্ষনের জন্য একটা নীতি রয়েছে এবং তা সময় সময় সংশোধন করা হয় । সূতরাং রাষ্ট্র তার অধিবাসীকে সেই আইন মান্য করতে বাধ্য করে । এই মতে কিছু বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ ইত্যাদি নামক ব্যবস্থা রয়েছে, যদিও বিবাহের প্রয়োগ সামান্য তবে বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য সরকারি আইনের ব্যবহার আজ কাল খুব ই দেখা যায় ।

৩। সামাজিক নিয়মটা জীবন যাপনের ক্ষেত্রে বেশী বাবহার করা হয়, এটার কোন লিখিত ফর্ম নেই, সুতরাং প্রতিপদে সংঘাতে এর কোন বিচার সম্ভব নয়, এমন কি সমাজে কার কি দায়িত্ব বা কর্তব্য তা অনুমান সাপেক্ষ, তাই প্রতিক্ষনে তা পালটিয়ে যায়, সমাজে কোন আদালত নেই যে এই সব সাংসারিক নিয়ম কানুন কে মান্য করতে বাধ্য করে । কোন আইনে লেখা হচ্ছে না কাজের মাসী ঠিক কত টা কাজে কত টাকা পাবেছেলে মেয়ের বিয়ের পর বিপত্নীপ বাবা বিয়ে করতে পারবেন কিনা ? সংসারে স্বামীর কত টাকার উঁপার্জন করা দরকার ?  বৌমাকে কেন চাকরি করতে দেওয়া হবে না ? বিউটি পার্লারে গিয়ে গিন্নিকে ঠিক কত টাকা বরাদ্দ করা যাবে ? স্বামী কেন বাসন মাজতে পারবে না... এই সব ই সামাজিক কানুনে বিচার করা হয়যেটা, কেউ লিখছে না... আর সংসারে গন্ডগোল বেধেই চলেছে


দাদা, কিছু ভাবুন, আর আমাদের কে কিভাবে গন্ডগোল কে মুক্তি দিয়ে ভালবাসা সংসারে আনা যায়, একটু ভাবুন ।



ফেসবুক আর্কিটেক্ট

ফেসবুক আর্কিটেক্ট // পী্যুষকান্তি বিশ্বাস

রাতের নক্ষত্রেরা যখন ভিড় করেছে পাবলিক পাবে
অ্যালকোহলের কণা গুলো উদ্বাস্তুর মত তারকাঁটা পার করে 
এসে মিশে যায় সনাতন রক্তে,
পৃথিবীর এই সব বিশালতা, আলো আর আবছায়ে
আমার পিতামহ, প্রপিতামহদের অপার্থিব সংগ্রাম আমার ধমনীতে
আর যত  ছায়াপথের সমষ্টি
জমায়েত হয়ে আমাকে চ্যালেঞ্জ করে ...
আমার দেয়ালে দেয়ালে তারা লিখে যাচ্ছে ভোটের স্লোগান
ট্যাগ করে যাচ্ছে আজ সকাল বিকাল

কি বলছে তারা, স্লোগান, 
বিক্রি করছে ধর্ষণের প্রতিবেদন ?

কিছু তবুও রোম, কিছু কিছু তবুও কিছু চোখের ঝিলিক
আমার পানীয়ের বৈদ্যুতিক রং হয়ে ডুব দিচ্ছে 
ঋনাত্মক আয়ন
আমি তাদের বিভব অনুভব করি  
তাদের চৌম্বক ক্ষেত্রকে আঙুলের গভীরে
অনুভব করতে চেষ্টা করি তাদের মার্কআপ ভাষা
কারা বলছে, দেহ দাও
এগিয়ে দিই বডি
কেউ বলে মাথা দাও
এগিয়ে দিই হেডার
খাবার  টেবিলে টেবিলে অসংখ্য ইঁদুর
তাদেরই কারো এক লেজে বেঁধে দিই এক টুকরো হাইপার টেক্সট ...

এ কোন অনুরণন নয়,  কোন রাষ্ট্রপতির কনভয় নয়, এ এক অন্য প্রটোকল,
এক অনন্য-সাধারণ এক অশরীরী করমর্দন, 
আমি শক্তি পাই, দশ আঙুলে বিছিয়ে দিই আমার অনুভুতি
কোন কবিতা নয়,
নিঃশব্দে ঘটে যায় বিপ্লব...এক সৃষ্টি ।

আন্তর্জালিকা আমার আশে পাশে... আমি এক স্পাইডারম্যান হয়ে যাই
আমি অসীম সাহসে
আমি এক অট্টালিকা থেকে অন্য অট্টালিকা লাফিয়ে যাই
এক শহর থেকে অন্য...
আমি রচনা করি এক বিশ্ব,
আমার আকাশে মেঘেরা এসে খেলা করে
আমার দেয়ালে এসে বৃষ্টিরা কবিতা লেখে

নিয়নের রক্তমাখা আলোক ঠুকরিয়ে
নক্ষত্রেরা আবার ফিরে আসে অন্ধকার রাতের আকাশে... ওরা ফিস ফিস করে কথা কয়
ওরা প্রেম করে...

আমি বুঝি, আমার রক্তে মিশে তারা আমারই প্রেমের কথা বলে ।

Friday, November 1, 2013

স্ট্যাচু-৫

স্ট্যাচু-৫

বুকের মধ্যে এক সিলিকন কণা থেকে অলিন্দর কোনো এক রাইট অ্যাঙ্গেলে বিক্ষিপ্ত বিচ্ছুরণ
ধর্মযুগের শব্দতরঙ্গে আলোড়িত হচ্ছে বিশ্বাস ও অবিশ্বাস, সাইন ওয়েভের এপিঠ ওপিঠ যখন,
আমার বিভিন্ন ঘুলঘুলিতে, হিগস বোসোন এনেছে ঈশ্বরের বাণীসমুহ মানুষের মঙ্গলকামনায়
এক নিদারুন পদার্থকণা, মিশে গেছে ওরা প্রতিটা ধুলিকণায় আমার কানে, নাকে, জিহবায়
আমাদের ঈশ্বরগণ, যারা ভীড় করে আছে আমাদের চৌমাথা, বটতলা, মন্দিরের উঠোন
বিধান সভা, কিংবা পার্লামেন্ট, যারা স্থবির নয় মোটেই, যার সব সত্যি, দুপায়ে গমনাগমন 
ওদের বিশ্বাস কে কিছুতেই আমি ফুঁ মেরে উড়িয়ে দিতে পারছি না শরতের বিকেলের বাতাসে
প্রতিনিয়ত শুধু ওরা পাদদেশে আটকে থাকা যুদ্ধস্মারককে অস্বীকার করে যেন অট্টহাসি হাসে ।


অথচ, এঁটে থাকা পাথরেও আমার একটা গতি আছে, গোপন, ত্রিমাত্রিক আকাশগঙ্গা পুত্র
তোমরা যে কি সব ত্বরণ-শূণ্য গতির কথা বালো ? কোন ভরবেগ ছাড়া এ কোন গতি-সুত্র ?
গলিমুখে মাইকের আজান, সন্ধ্যার আরতিতে ঘন্টা-ধ্বনি, শুধু এসবই সত্য ? ধর্মঘট , হরতাল ?
স্বাধীনতার স্বীকরোক্তি আমার কর্ণকুহরে টহলদারি করে, সত্য স্থাপনের তাগিদে দিনরাত গলাবাজি ।  
আর আমার গমন কি শুধুই কাল্পনিক ? নিছক রুপক ?কদম বদলে আমি যুদ্ধসাজে সাজি
লাইটসেবার হাতে নক্ষত্রমন্ডলে  আমিও সৈনিক হয়ে যাই। নিজেরই অক্ষে ঘুর্ননে আমার ভার্চুয়াল গতি
ওদের স্রেফ সারিবদ্ধ মিছিল মনে হয়নি বলে, ওরা আমাকে স্ট্যাচু বলে গালাগাল দিয়ে গেছে । 

Thursday, October 24, 2013

স্ট্যাচু -৪

স্ট্যাচু -৪

আমার পাথুরে চোখে ঠিকরে আসে রাত্রির চোখে দেখা নিয়নের আলো, কিংবা সি এফ এল হবে
সম্পর্কটা আবছায়ার,  প্রতিদিনের প্রেমিক দিনটা সেই বস্তুটা ঢুকিয়ে দিল রাত্রির গর্ভে
রাত এখন প্রিয়তমা গর্ভবতী হবে, জেব্রা লাইনে দাঁড়িয়ে সবুজ, হলুদ , লাল রঙের ব্যস্ততা
গলি মুখে মগরীবের আযান, মসজিদের চুড়া থেকে কেউ যেন মেপে যায় আমার ছায়ার উচ্চতা
দুপায়ে গলিয়ে লৌহসজ্জা, সন্ধ্যার অবনমনে দাঁড়িয়ে প্রস্তরীভুত আমি পৃথিবীর পরাজিত সেনা
ভাড়ার ট্যাক্সিতে চৌরাস্তায় আমার বংশধর , দুচোখে জিজ্ঞাসা যার উত্তর এ শহর কোনদিন খুঁজবেনা
খাদ্য খাদকের মেনুতে আজ রদ-বদল হবে, সুনিপুণ শিকারিরা লাল তান্দুরে আজ শিকার পোড়াবে
তারপর অনেক অন্ধকারে, নক্ষত্রেরা আমার মাথার উপরে পাত পেড়ে লাইন দিয়ে নামাজ পড়ে যাবে ।

ধুলোভর্তি চোখে যেটুকু রাজপথ দেখি, ফুটপাত আর রাস্তার মাঝে দশ রুপিয়াকা রেখা   
যাদের নাম আমার বুক পকেটে কাগজের ভাঁজে লিস্ট করা আছে, নামের পাশে 'বি পি এল' লেখা
ওদের দলে দলে যোগদান আর হরিবোল খৈ খেয়ে দিব্বি বেশ বাড়াচ্ছি মেদ এইভাবে
বৃষ্টিহীন বহুদিন,  আরো রাত্রে, মহাকর্ষজ ত্বরন এসে আমার ঠোঁটে, মুখে  মুত্র ত্যাগ করে যাবে, 
টুপিতে জমেছে নোংরা , হয়তো উঁকুন পেতেছে পরিপাটি সংসার, রুজু হয় নাই
আমার হৃদপিন্ডের অলিন্দে কেন কম্পন নাই, আল্লাহ  যেন মাফ না করেন আমায়
শুধু রাত্রের ঝলমলে লালসা নিয়ে দৌড়ে চলি শহরের এক কিনারা থেকে অন্য কিনারায়  ।

চাল





চাল

চাল ফুরিয়েছে ঘরে
অথচ চাল অনেক, রকমারি আর
তেমনই ক্ষুরধার জিহ্‌বা
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে এ কি দেখি ?
বাঘা তেঁতুল !!

স্ট্যাচু- ৩


স্ট্যাচু- ৩

ব্যারিকেডে ঘেরা চৌরাস্তা,  ডানায় ঝাপটে ফেলে রাতের নিস্তব্ধতা , ভোরের রানার
ছাই রঙা এক কাক এসে সদর্পে জানিয়ে দিয়ে গেল,  সূর্য উঠবে না, ছুটি আজ  তার
সিক রিপোর্ট করেছে সে, মেডিকেল চেক-আপ, কিছু আবশ্যিক রক্ত পরীক্ষা  ল্যাবে ,
শহরের নোনা ধরা বায়ুতে এসেছে নতুন কোনো ভাইরাস; কিংবা ব্যাকটেরিয়া হবে
কুঁয়াষার অগ্নাশয়ে, শীতের  ক্ষুদ্রান্তে চেপে বসেছে তাদের কলোনী, নাছোড় বান্দা , ছাড়ছে না
কোন অ্যান্টিবায়োটিক  জমির  ক্ষতচিহ্ন কে রক্তখোর এই মাছিদের আলাদা করতে পারছে না
এমনি তে সূর্যের কামাই হয়না, বিষুবরেখা বরাবর ছুটে যাওয়া তার, কোনদিন হয় না লেট
কোন বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট, বোনাস ছাড়াই, বাজারে খেটে খাওয়া এক ক্যালোরি প্যাকেট ।


রোগ-যন্ত্রনা তেমন নেই সূর্যের , লাগেনা কোন এনাস্থেটিক, আগুনের ক্ষত এমনিতে ভরে যায়
শুধু  রক্ত রাঙা লাল রশ্মিটা ঈষৎ হলুদ হয়ে গেলে, পৃথিবীতে কান্নার রোল পড়ে যায়
আকাশের নক্ষত্র গুলি, বাস্তু ছাড়া, ভিটেমাটি ছাড়া এই পরিবারকে অনাথ করে দিলে
অলিতে, গলিতে, ল্যাম্প পোষ্টে পোষ্টার চাপায় আলোকের শীর্ণ বুভুক্ষ শাবকেরা মিলে
পুরানো চুন-খসা ইটের উপর নখ আঁচড়ায়; ওদের চোখগুলি নিষ্পাপ বেশ ডাগর ডাগর,
আমার পাথুরে চোখে ওরা পলক মেলায়, যেন ওরা এসে আমার ভ্রুর নিচে আশ্রয় চায় ,
আমি পলক ফেলতে পারি না, পাছে ওদের ২৪ বাই ৭ জীবন আয়না হয়ে যায় । 

স্ট্যাচু- ২

স্ট্যাচু- ২

পায়ে অ্যাংকলেট বুট , হাতে লাগাম, ঘোড়ার পিঠে সওয়ার, ফুটপাত থেকে কিছু দূরে
রৌদ্রের বাঁধভাঙা স্রোতের প্রবাহে বালির মত চকমকি ঘুরপাক কিছু চলে আসে উড়ে
পদচারী মানুষের মত কিছু কথাকলির ঢল, গলিমুখে জড়াজড়ি বুদবুদের উন্মাদনা আর
বাষ্প হয়ে যাওয়া,  পাথুরে চোখটা অবনমন করে দেখি, আমার গলায় গণতান্ত্রিক হার
কারা বেঁধে দিয়ে গেছে এক দড়ির প্রান্ত আর তাতে ঝুলে আছে নির্বাচনী প্রস্তাবনা.
কারো বোধহয় মৃত্যু হয়নি আজ ,  কা কা কা  আজ আর আমি কোন কাক দেখিনা,
শুধু দেখি কিছু ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ জঞ্জাল জড়ো হয়ে আসে আমার ঘোড়ার খুরের উপরে
তারা কাচু-মাচু হয়ে একে অপরের দিকে তাকায় আর শুধু আমার পা টেনে ধরে

প্রতিরক্ষা যুদ্ধের কাছে সাম্রাজ্যবাদীরা এখনো নোয়ায়নি মাথা
অন্তর্জাল জুড়েছে  এক সামাজিক বন্ধন, পাছে লড়ে হেরে যায় কৃত্রিম কবিতার খাতা
ইথার তরঙ্গ থেকে নেমে আসে বুঝি  কোন সাংকেতিক মহাকাশচারী যাদুকর ম্যানড্রেক
আমার ধমনীতে তারা বয়ে আনে আড্রেনালিন, পাকস্থলিতে কোন  রাঙা প্রজাপতি এক
বাতাসে রক্তের চাপ, শর্করা বাড়ছে রক্তে, মুঠি শিথিল হয়ে এই বুঝি ছুটে যায় বল্গা
বাতাসে অক্সিজেনের গন্ধ, আঙ্গুলে শির শির, উপেক্ষা করে ঝড় ঝঞ্ঝা  প্রাকৃতিক দুর্যোগ
কানের ফোকরে পেড়ে রাখা পাখিদম্পতির ডিমে নিষ্প্রাণ শহরে আনছে প্রান-সংযোগ ।

Wednesday, October 23, 2013

কাঁটা তার


কাঁটা তার

কাঁটা তারের কিছু কথা, খদ্দরের
রেশমি চাদরের
দেশি ভালোবাসার হাওয়া 
দুনৌকায় তুলেছে সংসার ।

একটা শোয়ার ঘর, একটা রান্নার
শোয়ার টা বাতানুকুল,
রান্না ঘরে গরম হচ্ছে তেল, জল, স্রোত...

বেগুনি, রেশমি শব্দমায়াগুলো পাখনা মেলছে 
ব্যালকনিতে রৌদ্রের সমুদ্র
সাঁতার কাটবে বলে বেগুনি ডুবুরি

যেই মারল ঝাঁপ
জাঙ্গিয়াতে বেঁধে যায় কাঁটাতার
পায়ে জড়িয়ে যায় শান্তিপুরি তাঁত ।



Sunday, October 20, 2013

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

থকথকে অন্ধকারে ভোরের আলোক মুছে
প্রতিদিনের পথ চলা কর্পোরেট ট্যুর
বিশ্ববাতায়নের যান্ত্রিক বিস্তারে
কখন যে যাতাকলে পিষ্ট দুপুর

যমুনার বাঁকা ঢেউয়ে চুপিসাড়ে লুকায়ে মুখ
কালিমুখে অপরাধী সুনীল গগন
এ যেন অন্য স্বাদের, অনন্য সময় স্রোত,
এ যেন অন্য চেতনা এক, অন্য জীবন

মহামানবের সাগর, নেমেছে মানুষের ঢল,
প্রাচ্যের প্রাচীরে সঙ্গীত প্রচুর
অসংখ্য শব্দ ভীড়েও তার গীত  ছায়া হয়ে
গুঞ্জে চলেছে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ।

গদ্য পদ্য শতপথ করছে হৃদয় ভ্রমন
সৌন্দর্য্য মথিত সুর সহস্ররুপা
শত শতাব্দী জুড়ে পথিকের আনাগোনা
প্রাচ্য পাশ্চাত্য হেঁটে ক্লান্ত দুপা

চলেছি আজো সেই সময়ের ডানায় ভর
কখনো বিমান বা কখনও রকেট
সাত সাগর তের নদী, বৈদ্যুতিক মাধ্যম
চার দেওয়ালে এসে, ঝাঁকে ইন্টারনেট

২৪ বাই ৭,  অষ্টপ্রহর অফিস
প্রতিরহ গুনছে হিসাব ভুলচুক
দিবা রাত্রি প্রতিদিন, হাটে মাঠে সঙ্গীন
সংসারের ধারাপাত, পড়ে ফেসবুক

ছোটে চাকা আকা বাঁকা , রাজপথে ইঁদুর দৌড়
পদে পদে অংক, আজ, হিসাবী জনতা
কাল চক্রে পৃথী,  জটিল অর্থনীতি
বাজারের মুল্যে এখন সস্তা কবিতা ।

জীবনের ছবি খুঁজি , ময়না পাড়ার মাঠ
শ্যাওলা জমা ঘাট আর দীঘি-পুকুর
এক মুখ দাড়ি নিয়ে, তখনো দেওয়াল এটে
দাঁড়িয়ে থাকে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ।

স্ট্যাচু - ১

স্ট্যাচু- ১

আমি এক স্ট্যাচু, পায়ে অ্যাংকলেট বুট , গায়ে আসফল্টের জামা,  জিন পেতে বসে ঘোড়ায় সওয়ার,
পায়ে আটকে থাকে ফুটপাতের কম্পন, আমি টের পাই এক অভিকেন্দ্রিক টান,  মোড়ে পাঁচমাথার
ঘুরছে কিছু চাকা, বুকের উপরে এপিঠ ওপিঠ, জিরো থেকে তিনশ উন-ষাট, আপন বুকের উপর
ঘুর্ণনে সম্পূর্ণ তার ব্রম্মান্ড ভ্রমন, নিজেরই পদদলনে বন্ধুর বুক, আজ ফুটেছে এক আধুনিক শহর !
আনুভব করি তার শব্দের মুখে মুখে মানুষের পিতামহ, প্রপিতামহগণদের সাথে হেঁটে যাই শব্দবিহীন
বাতাসের স্বচ্ছ ধুলিকণায়, সেই সব ধ্বনি কণা, অণু-পরমাণুদের সাথে  আমার সংলাপ সারাদিন
সুসজ্জিত লাস্যময়ী যুবতী সন্ধ্যায়, কিংবা রাতজাগা রক্তচক্ষু ক্লান্ত ভোরবেলাদের গাঁথা
আমি সেই কথোপকথনের কপালে হাত বুলায়, কান ধরে টানি তাদের, আর উঠে আসে মাথা ।

তেলহীন  সেই সব মাথারা আমার আঙুল বেঁকিয়ে নিয়ে মননে তোলায় এক পারমানবিক ঘি
জ্যামিতির অংক হয়ে বাটির তলাথকে আকাঙ্ক্ষার কঠিন এক উপপাদ্য আমি নিয়ে এসেছি
নীচে, আরও গভীরে, তারা অজস্র অন্ধকারের গন্ধ, শহরের গিজ গিজ আলো, রাত, দিন মাঠে
ভিড়ের বাসে, রেলের কামরায়,  শনি- বুধ বাজার, গংগার দুপাড়ে আঁশটে শ্যাঁওলা জমা ঘাটে
ওদের ভাষা, চাহনি, ক্ষুধা, জ্যোৎস্নায় রাত্রিজুড়ে দেখা সোনালি আপ্লুত আর যৎ অযাচিত  স্বপ্ন
আমার পাদদেশে জমে থাকে  বা পুষ্পস্তবকে শুকিয়ে কখন যে তারা বাষ্প হয় বাতাসের অভ্যন্তরে
আঙুলের গন্ধ শুঁকি, তারা, আমার পাথুরে চোখের পাতায় মেঘ হয়ে, জমে থাকে স্তরে স্তরে ।