Thursday, August 7, 2014

খাজানা

খাজানা

একটা গল্প
একটা তোতার কাহিনী,
গল্পের রাজপাঠ ধরে
একটা রাজার রুপকথায় ঢুকেছিলো
রাজকুমারের আত্মজীবনী !

যেটা, জানতে না জানতেই
জটা থেকে লাফ দিল গঙ্গা
সরযূ থেকে লাফ দিয়ে উঠে এলো পাড়ে
এক সারমেয়...

স্বর্গ থেকে অনেক দূর তখনো কাঞ্চনজংঘা
মাঘের শেষে
চৈত্রের ফাটলে প্রবেশ করছে সীতার ধ্বংসাবশেষ
যেখানে লুকানো আছে তেতুল ও বট
মৃত্যুঞ্জয়ের আশিয়ানা !
"এই সোনার ভান্ডারের চেয়ে মূল্যবান রত্নভান্ডার এখানে আছে।
একবার যাইবে না ?"

খুঁজতে খুঁজতে
সেই সব যুবতী নদীর গল্প
পাড় ধরে হেঁটে গেল নটে গাছটি; গুঁড়িটিও !

কিছু কিছু শিকড় যদিও লবনের স্বাদ পায় না

কুকুরটি তবুও মোহনা অব্দি
সঙ্গে সঙ্গে আসে ।


গুমরাহ

গুমরাহ

কপালের উপর দিয়ে ফোর লেগ বাই
সীমানার বিপরীতে প্রবাহ
কসকে ধরে রেখেছি এখানেই গঙ্গা

গতিপথে হারিয়ে যেতে যেতে এক দলছুট
মাছের ঝাঁকে
দুষ্মন্তের রাজ্য চুইয়ে চুইয়ে
মিশে গেল ত্রিবেনী সংগমে

বক্সারের প্রান্তরে ছড়িয়ে শূকরের চর্বি
ইলাহাবাদের পাড় ছাড়িয়ে সিপাহীর চামড়াও...

এক গঙ্গা রক্ত
গুলি বারুদের ভার বুকে নিয়ে
ভাগীরথীর শাখা-প্রশাখায়
কিভাবে
গুমরাহ হয়ে গেল ।



ডি এন ডি

ডি এন ডি

ডি এন ডি ব্রীজ ডাকছে ,
ব্রীজের নিচে যমুনা, জলের সাথে মিশে বাদামী স্রোত

রৌদ্রের কাঁধে চড়ে আসছে রাজধানীর সকাল

আমরা কিছু ডোরাকাটা
আমরা কিছু খাঁকি
এল-জির পর্দায় চোখ

যমুনা ডাকছে, ফেনাময় স্রোতের হাতছানি
চলো আমরা দুগ্লাস জলের পাশে আসি
চলো আমরা ব্রীজের ঢালানে পিছলে যাই

আমরা কিছু সামান্য সুনীল
আমরা কিছু সামান্য শঙ্খ
উজানে পাড় কাটি

আর পাথরে দাগ কাটতে কাটতে
চোরি চোরি নিচু হয়ে ঝুঁকে
বি এম ডব্লিউ এর ক্লিভেজ দেকে ফেলি ...

Sunday, July 27, 2014

খুফু

 খুফু

বালিপথে বিছিয়ে দিয়েছি হলুদপোড়া
নেগেটিভে বাঁশপাতা ঘাসবন,
আকাশ থেকে নামছে সিঁড়ি
এই খাপে পা রাখো খুফু

পিঠ পিছে বাঁকা চাঁদ
তেমনই আছে ঢেউ খেলা টেরাকোটা
যেখানে ফারাও টুটানখামুন
রেখেছিলো শাণিত অসি
যেখানে রক্ত না ছুঁয়ে দিলে
কোন নোনতা ঘাম বয়ে গিয়ে
নীলনদ হতো না

এইখানে জিভ রাখো হেরোডোটাস
যে সংগমর্মর ইলিয়া, ক্লিওপেট্রার গা ভিজিয়েছে,
খুর্টামের গা বেয়ে নেমে আসে সৈন্ধব লবন
যেখানে চুমু না খেলে কোন যৌনতা আজ
সভ্য হয়ে উঠত না

আর
এই খানে তুমি ইলেক্ট্রনগুলো রাখো ফ্যারাডে
যেখানে এল ই ডি থেকে চুইয়ে পড়ে জ্যোৎস্না
বিশ্ববাজার থেকে সূর্যরশ্মিগুলি
সিল্করুটের দিকে চলে যায়

এক আল্পস থেকে অন্য হিমালয়
ঝুল টান দিয়ে
এক পিরামিড থেকে অন্য তাজমহল
পার হয়ে যায় ...

Saturday, July 26, 2014

পরিযায়ী


পরিযায়ী

একটা কথা,মুখের ভিতর,না বলা
এই জানুয়ারীতে গুনিতক হারে বাড়ছে শীত,
এই চিড়িয়াখানা থেকেও উড়ে যাবে এই সব শীত একদিন
কখোনো আলোর থেকে এক এক ফোটা অন্ধকার
ছিনিয়ে নিয়ে একটা সুতোয় গেঁথে নেবে মালা
এক একটি বক্র রেখা
না আঁকা

অচেনা উত্তর গোলার্ধ
সুমেরীয় অক্ষরেকা বরাবর অচানক বরফ হয়ে
দিন রাত গুন ভাগ করে জেগে থাকবে ভল্গার উপত্যকা ।

আর
রণক্ষেত্র থেকে অন্ধকার ছেড়ে যাবে আরো রক্তের দিকে
আর
মৃত হাঁসগুলির পাখনা পায়ে মুঠো করে
এক ঝাঁক বুনো হাঁস দিগন্তে পাখনা মেলে
পাড়ি দেবে সাইবেরিইয়ায় ।



ক্ষুদ্রফিল

ক্ষুদ্রফিল //পীযূষকান্তি বিশ্বাস

পালকের আড়ালে যে সব দলছুট
মেঘ লুকিয়ে থাকে
তাদের কে আমরা কিছু সাদা ছেড়া সুনীল বা
সমুদ্রগুপ্ত বলে জানি ।

ষাট হাজার নামের পিছনে
যে ধুসর মেনু,
হাতের পিছনে হাত রেখে,
কন্ঠ ঘিরে অখন্ড বৃত্ত
তুলসীর গাটে গাটে গুনে যাচ্ছি
অজস্র নেপোলিয়ন
আমরা কিছু সামান্য সিরাজ
ডানা ঝাঁপটায়ে ফিরে আসি
জলের কাছে

মেঘ বালিকাদের কাছে
বন্ধক রেখেছি নুনের লালন
আমরা কিছু অসম্পূর্ন বিজয়
সনাতনী হরাভরা পত্রী
নদীর ভরবেগ পরিমাপ করতে গিয়ে

ক্লোরোফিলে ঘামের উপস্থিতি ফিল করি ।









Saturday, July 12, 2014

মিলিয়ন যুগ পর


মিলিয়ন যুগ পর

ডিজিট যোগ করে করে ডিজিটাল হচ্ছি
ডিজিটের পরে ডিজিট যোগ করে মুদ্রাস্ফীতি
মেদ পুড়িয়ে সমগ্র পরিবার খাচ্ছি
কপাল ভারতী ।

ভাইয়ের হাতে স্যামসুং,
বোনের হাতে জন ট্রাভোল্টা
শেয়ারে বিয়োগ হচ্ছে কোকেকোলা ...
মায়ের চুড়িদার পরে মঞ্চ থেকে দিচ্ছে ঝাঁপ
আমাদের ব্লাক অ্যান্ড হোয়াইট বাপ

হাত পুড়ে পুড়ে হ্যাংলা হেসেল
পিঠ পুড়ে পুড়ে পাটি সাপটা
গ্লাস থেকে ছলকিয়ে ওঠছে সমুদ্র সফেন

দুদন্ড শান্তির জন্য গাছ পাতা বেয়ে
কেউ এগিয়ে আসবেন ?

Tuesday, June 10, 2014

Just a number

Just a number

Busy road march on,
I can see a flock of walkers
one of them ahead,
two of them on back foot.

Red lights does not wink.

I look at heap of leaves
one comes by flying beneath my foot,
two of those wait for their turn
some of those turns into pale
piles on the grave yard..

Just a number
Does not matter
Even, same crowd in Delhi metro
full house at Firoz Shah Kotla

Virat comes in, Sourav goes
Goutam continues batting
takes single, one and two

Just a number,
only, without that,
when you are on ninety nine,
a century never scored.

জাস্ট একটা নাম্বার

জাস্ট একটা নাম্বার // পীযূষকান্তি বিশ্বাস


ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে হাঁটা
কত মানুষ দেখি, কেউ এগিয়ে
কেউ পিছিয়ে দুপা
কোন রেড লাইটের কিছু যায় আসে না।


কত পাতা দেখি
একটা উড়ে আসে, দুটো ঝুলে থাকে গাছেই
কিছু হলুদ হয়ে পড়ে থাকে
রাস্তায় পিচের উপর ।

জাস্ট একটা নাম্বার
বেড়ে বা কমে গেলেও
পালিকা বাজারে দেখি সেই এক ভীড়
ফিরোজ শাহ কোটলাতে সেই ঠাঁসা গ্যালারী
বিরাট আসে , সৌরভ যায়
গৌতম দৌড়ে ক্রিজ পালটায়ে করে যায় এক, দুই রান
জাস্ট একটা নাম্বার
না বাড়লে,

নিরানব্বই টা নিরানব্বই থাকে !







চূত

চূত // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

হলুদ হয়ে ছিলো আগেই
একটু শেক বানিয়ে নিলে হতো,
হয়তো পা কেঁপে যেতো, কিংবা যেত না,
দীপংকর দা এলে হয়ত,পানীয়তে  রং ধরতো পলাশ ফাগুন
নেশাগ্রস্থ  হয়ে কবিতা আওড়াতো গোটা বাজার ...

নেশার স্থিতিস্থাপকতায় কুঁচকে যাচ্ছে ইউরোপ
ফুলে উঠছে আল্পসের শিখর

অথচ চামড়া গুলো কুঁচকে যাবার আগে
সে ভারত শাসনের কথা বলছিলো

আর আমি, দেখো,
নির্দ্বিধায় ঠোঁট ছুয়ে দিচ্ছি ওঁর চিবুকে,
ছিড়ে নিচ্ছি স্তন
হিরন্যকষ্যপের মত শুষে নিচ্ছি পৃথিবীর ম্যাগনা

সোনার লংকার পায়ে বাঁধছি ঘুংরু
এস কাঁটা মুদ্রায় নাচছে
কন্যাকুমারী ...


Sunday, May 18, 2014

শেফার

শেফার

ডিজেল সস্তা হোলো, পদদলিত একলা পথ, 
মিছিলে আর পা টানে না, 
কিসের ডাক পাড়ো হে ?
এবার কিছু মাল কড়ি ছাড়ো হে  !

হলুদের বাগীচায় গেরুয়া ফুল
অঘ্রানের আতপ চালে এখনো রাতের অন্ধকার...
সকাল গড়িয়ে বিকেল হতে
এখনো অনেক দশমিক পথ
চক্রান্তে ঘুরে আসতে হবে ঘড়ির কাঁটার,  

কোন দিকে ঘোরাব মাথা ?
কী লিখতে হবে বলুন , অগ্রজ ?
কোন কাঁটায় করব কদম বদল ? 

বরং গাড়িতে প্রস্তুত দুয়ার,
দুপা বিছানায় এলিয়ে চোখ নামালো রাস্তা 
আয়নায় উঁকিবুকি পিলিওন রাইডার 
ফরাসী আতরের গন্ধে এলোমেলো চুল,
মুখের উপর উড়ে আসে শাড়ীর আচল 
উইন্ড স্ক্রিনে ফ্লাইং কিস ,  বুট-স্পেসে রাখো কবিতার খাতা 
এক্সিলেটরে রাখো পা,
শেফার এবার, 
চালাও পান্সি বেলঘরিয়া ।

Sunday, April 27, 2014

সকার

সকার-১

ফাঁটা চামড়ার এপি ডার্মিস জুড়ে হিস হিস সিলাই কাটছে পাঁচ রিঙের অলিম্পিক,
তিন কাঠির উল্লম্ব শীর্ষাসনে দাঁড়িয়ে ঘড়ি ঘড়ি এক দো পল 
বাঁশের চৌকোনা গন্তব্যে পায়ে পায়ে রেফারীর বাঁশি,
ক্যামেরার গ্যালারীতে আবদ্ধ রিভলভিং শিংহাসন ,
সিমেন্টের ব্যারিকেডে আছড়ে পড়ছে সাড়ে শেষট্টি ডিগ্রীতে উড়ে আসা ভাসমান বল, ওত পেতে জাল বিছিয়ে গেরুয়া ঘাস ফুল 
মাঝমাঠে জাঁকিয়ে বসেছে লাথালাথি খেল...একটা লম্বা হুইসিল
ইয়াহ, ইটস আ গেম বেবী


সকার-২

কীবোর্ডে স্ট্রোক, 
সেন্ট্রার হাফ থেকে বল গড়িয়ে যাচ্ছে রাইট উইয়িং
দেয়ালের ডার্ট ভেদ করে চলেছে ধুরন্ধর স্ট্রল বাহিনী
এক এক টা থ্রো বুল পার করে লিওনেল মেসির হ্যান্ড বল
আর ফ্রিকিকএ বাজী মেরে যাচ্ছে গেরুয়া কমল, 
এক হাতে বুক ডন আর অন্যহাতে মাল্টিপ্লেক্সের থিয়েটার হলে 
স্পাইডারম্যান বুনে চলেছে খুলি-গুহারাজ্যের থ্রিডি ইন্দ্রজাল


সকার-৩

লেফট স্ট্রাইকারের ডান পায়ের বল, একাকী গোল কিপার
তিনফুট ফেটে যাচ্ছে দ্রৌপদির আঁচল 
আর সদ্যবিবাহিত দম্পতির মুখের ভিতর গুলে যাচ্ছে আমুল চকোলেট 
পেনাল্টি বক্সে নেমে আসছে এলডোরেডোর মধুচন্দ্রিমা জেডকুটির
দুর্য্যোধনের ডান উরুর পৌরুষ পিচ্ছিল, বাম পায়ের শট , মাংসল দুপাড়ের মাঝখান দিয়ে 
জালের ফুটোতে ঢুকে গেলো ফুটকি ফুটকি ফুটবল

সকার-৪

হ্যামস্ট্রিং এর হিংসুটে আদরে উৎপাদিত হ্যালোজিনের বৈদ্যুতিক ঘর্ষনে
সংবাদ পত্রের পাতায় পাতায় ছেপে গেছে ঘাস ফড়িংয়ের যৌণ নিগ্রহ
প্রেমিক কবিতা জুড়ে জ্যোৎস্না মোমের
গলে পচে যাওয়া দেহে হঠাৎ বুটের আঘাত...
বুকে পেটে নাকে কানে গালে পিঠে, টোল খাওয়া পাছায়,
পা তো পড়বেই, 
পায়ে পায়ে পার স্কোয়ার ফুটে চোদ্দ নিউটন জোরে প্রচন্ড প্রেসার
ব্যাক্তিগত দেওয়াল আর নেরোলাকের রোমান্টিক বিক্রিয়ায়
এভাবেই চৌকোনা ফাঁকাটা গোল হয়ে যায় ...

সকার-৫

যেখানে গোল টা বাঁধা ছিলো সরলরেখায় দুপাশে শহীদ বিকাশ মার্গ...
আপাতত এটাই পড়েছি টুইটারে ,স্মার্ট ফোনে অভিনব সকার,
বল এবার সোসাল মিডিয়ার কোর্টে,পায়ে পায়ে এগিয়ে আসছে দশ নাম্বার স্ট্রাইকার,
পিছিয়ে যাচ্ছে ই এস পি এন, দুই নাম্বার পিছিয়ে যাচ্ছে হাফ ব্যাক, 
এগিয়ে আসছে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ
এক এক টা থ্রো  পুলিশ থানার দেওয়ালের ঝুলে থাকা মহাত্মা গান্ধীর ফটোফ্রেমের দিকে 
বাড়িয়ে দিচ্ছে পাস...

সকার-৬

রোনাল্ডোর বাঁ-পায়ের শটে উড়ে গেল সাদা ছেঁড়া পাল,
রাইট কর্নার বরাবর কলমির গন্ধে ভরা জলে ভেসে ভেসে 
জালের ফুটোতে ঢুকে যচ্ছে তিন শো ষাট ডিগ্রির অদ্ভুত ফুটবল
জালে জালে জড়াচ্ছে রেফারীর বাঁশী, আন্তর্জালে , টুইটারে ঢেউ তুলে 
ফেসবুকে ঝড় হয়ে বয়ে যাচ্ছে নরেন্দ্রা মোদি ওয়েভ, 
ল্যাপটপে ল্যাপটপে কুরুক্ষত্র, পারদের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে রাজপথে নেমে পড়েছে ত্রিরঙ্গা ,
ভুভুজেলার আওয়াজে হারিয়ে যাচ্ছে ধারাভাষ্যকারের আপিল 
স্কোর বোর্ডে ঝুলছে ডিজিটাল গোল...

সকার-৭


সংবাদ পত্রের চৌকোনা পাতায় পাতায় ছেপে গেল ঘাস ফড়িংয়ের কোকোকলা  প্রেম
প্রেমিক কবিতার মেদমাই শরীর জুড়ে তখন আড্রিলানিনের ঢেউ
চেয়ারে চেয়ারে জেগে উঠেছে জনজোয়ার, পিটুইটারী গ্রন্থিতে বিজয় মিছিল
লোকসভার বেঞ্চের উপর সানি লিওনের উঠক বৈঠক
সিক্সটি নাইন মুদ্রার ঢেউ
ছুয়ে যাচ্ছে গ্যালারীর ডোরাকাটা ছাঁদ...

সকার-৮


এখানেও গোল, ভূগোলের পাতা জুড়ে চার্বাক দর্শন ,
কুরুক্ষেত্রে পরিত্যক্ত পড়ে এনাকোণ্ডার তাজা খোলোস, 
বিরাট রাজ্যে আত্মগোপন করে হাওয়ার স্প্যা নিচ্ছে পবনপুত্র স্ট্রাইকার...
প্রোব্যাবিলিটি স্টুপিড !
বল পায়ে এবার আসবে কোন ধুরন্ধর চক্রাধারী কানহা ...
ড্রিবলে ড্রিবলে ল্যাং মেরে এগিয়ে যাবে ফ্লাস গর্ডন
গোল মেরে এগিয়ে দেবে কোন যাদুকর ম্যানড্রেক
নার্দার চুলের গন্ধে মাতাল হবে সমস্ত ইন্দ্রপ্রস্থ ...

সকার-৯

প্রেস বক্সে চিয়ার লিডারদের সাথে বিগ হ্যান্ড 
লাল পাগের সাথে লাল টাই বিগব্যান্ড সিদ্ধু
প্রতিটা শের মনে হয় 
প্রতি শটে গোল ! 

হাফ টাইম বুঝে নড়ে চড়ে বসে লোকসভার গ্যালারী
চেয়ারগুলি নড়ে চড়ে করে নেয় মুদ্রা বদল ... 
সাইট ব্যাক বরাবর প্রতিশ্রুতিবান খেলোয়াড়দের আত্মবিবর্তন    
সিলভার স্ক্রীনে ভেসে আসে কেয়া শেঠের ক্রিমের বিজ্ঞাপন
এগিয়ে আসছে স্লিভলেস ক্যাটেরিনা কাইফ
পিছিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত 
বিলিয়ন ডলারের পেমেন্ট সিডিউল

সকার-১০


তবুও 
ক্যামেরা ঘুরছে কাঁধে কাঁধে, 
বল ঘুরছে পায়ে পায়ে,  
বাম থেকে ঘাস ফুল, সাম্প্রদায়িক থেকে ওয়ালমার্ট
প্রান্তীয় ধানক্ষেতে সবুজ বিপ্লব, পাইকারি দরে ট্রাকে ট্রাকে আড়তে ঢুকছে 
আন্তঃপ্রজাতি অস্তিত্বের সংগ্রাম
বহিরগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস টেন এর ফার্স্ট বয় রাত জেগে পড়ছে চাহিদা জোগান
মাঝমাঠে বল ধরতে গিয়ে তার বারবার বেজে যাচ্ছে ফাউল হুইসিল
বল ছুটে যাচ্ছে বিপক্ষ শিবিরে , সল্টলেক স্টেডিয়ামের সেন্টার হাফ থেকে একটা জেন্টল পুশ
মাঝমাঠ পার করে ফড় ফড় ঢুকে যাচ্ছে এক দল পা , পায়ে পায়ে অনেক পায়ের মিছিল
মিছিলে মিছিলে ভেঙে যাচ্ছে পেনাল্টি বক্সের দেওয়াল, চাপে চাপে সরে যাচ্ছে ইট
ইটের পাঁজরে লোহার সিক, 
ইটের ফাঁকে ফাঁকে লোহার সিক, 
ইট ফাঁক করে উঠে যাচ্ছে বহুতল বাড়ি, শুয়ে পড়ছে বহুগামী পা , শুয়ে যাচ্ছে ঘাস মাটি ডিস্কো, হুক্কা বার, বাউন্সার , 
রাত ভোরে ভোদকার গ্লাসে ফের একবার জন্ম নিচ্ছে রুপংকর... 


সকার-১১


শুষ্ক গুহার মুখে ক্রমবর্ধমান খিদের চাপ, লালা ঝরিয়ে মরে যাচ্ছে দাঁত, 
ছিড়ে যাচ্ছে চামড়া, 
খুলে যাচ্ছে গুহামুখ,  
গুটিশুটি চারদেওয়ালে ঢুকে যাচ্ছে হেরো বাজীগর  
কমার্শিয়াল ব্রেক নিচ্ছে জাতিস্মর সুমন...
কন্ডোমের রং পাল্টে দেওয়ালে জায়গা করে নিচ্ছে সিলিকন ভ্যালি
ভোট শেয়ারে দখল নিচ্ছে গুগল গ্লাস, 
অ্যান্ড্রয়েডের পর্দায় ভেসে উঠছে স্কোরবোর্ড...

সকার-১২


ভিনগ্রহের রেডিও সিগনালে অফসাইড হয়ে বসন্ত বিহারের পুলিশের উয়িং,
লেবুজলে স্নান সেরে পোস্ট মর্টেম থেকে ফিরছে নির্ভয়ার লাশ,
দিল্লি হাটের স্টলে ভরে যাচ্ছে বহুজাগতিক ভায়াগ্রার প্যাক, 
বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হলো, কি দরে বিক্রি হলো সুইস ব্যাংকের কল সেন্টার ?
কি দরে কেনা হল রেড লাইট জাম্প ?
কি দরে বিক্রি হল লাইন্স ম্যানের ফ্লাগ ?
কি দরে বিক্রি হল রেফারীর বাঁশি ?

গো ও ও ও ল !!!

ইয়াহ, ইটস আ গেম বেবী, 
আ ডিজিটাল গেম ।

রুটি বিক্রি হয়


রুটি বিক্রি হয়

চড়ুয়ের পায়ে প্রাগঐতিহাসিক ব্যাস্ততা
ঘোসলায় আটকে আটপৌরে সংসার
কবিতায় কালিনারি উৎসব
রান্নাঘরে  ঘাস পাতা বিচুলির
জঞ্জাল  বিক্রি হয়

গোয়ালে
খবর বিক্রি হয়
দেওয়ালে
গোবর বিক্রি হয় ।

ঘুলঘুলিতে যুবরাজ, গ্যালারীতে ভিড়
বসন্ত বিহারের পুলিশ স্টেশনে কোকাকুরার
পনের ডিগ্রির গুগলি,
উঁকি মারে আই পি এল

খেলা বিক্রি হয়
এইমস এর চত্বরে
নির্ভয়ার লাশ বিক্রি হয় ।

এখনো দেওয়ালে
টিকটিকির কটর কটর
কানাচে পোকার ঝিঁ ঝিঁ,
ভুগোলের পাতায়
জ্যোৎস্নার আহ্বানে
জোনাকির মিছিল

সুরঞ্জনা ? ঐখানে কী তোমার ?
কি কথা স্যামসুং মোবাইলে
অ্যামবিয়েনস মলের বাইরে কার্বন ডাই অক্সাইড গায়ে
সংমর্মর,

যেখানে কথার খই বিক্রি হয়
ফেসবুকে প্রেম বিক্রি হয়

অ্যামাজনে
কেকের বাক্সে দেশী রুটি বিক্রি হয় ।

Saturday, April 19, 2014

বালুকাবেলা

বালুকাবেলা // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

হাতে হাতে ভাগ্য মিলে গেলে
রেখাদের প্রতিকী চলন
ঘর খুঁজে ফেরে...

স্রোতের বাঁকে বাঁকে
প্রতিকুল আবহাওয়ায়
নদীর জীবনচক্র ঘিরে
সাদা সারসের সংসার...

এরপর হলুদ হয়ে গেলে পাহাড়ী ঝর্ণা ,
বুকের ভিতর প্রতিবেশী গ্রাম
প্রতীক্ষায় উদগ্রীব থাকে
জ্যোৎস্না কবিতা

মাটির গভীরে সোনালী হরিণ ডাঙ্গা
সীমানার রেখা ছুঁয়ে সামুদ্রিক গাঁথায়
প্রেমিক কলম লেখে

বালুকাবেলা  ...


Monday, March 31, 2014

বেলাভূমির প্রেম সিরিজ

প্রেম -১

কবিতা তোমার দোনলা বৃন্তে  কুমারী কুসুম !
আমার ওষ্ঠে তোমার কামঅফলেজ প্রজাপতি
তোমার রহস্যময়ী চোখে কোকোকলা ঝড়
আমার বালিয়াড়ি হৃদয় জুড়ে তুষার বৃষ্টি এনেছে
ক্যা এহি প্যার হে ?
চৈত্রের কোমল বুকে বাসন্তী হরিয়ালী হাতছানি
বেলনা পিষে চলেছে ক্রমাগত অখন্ডমন্ডলম আকরঙ স্থিতিস্থাপক মাটি
হ্যা হ্যা আমি প্রেম করেছি, মাটি, মাটি আমার প্রেম ।

প্রেম-২

এক দু পলক তাকিয়ে গোল গোল চোখ
রক্ত হয়ে গেলে,
আজিমাথে আড়াল হয় রেঞ্জ
শ্যাওলার সবুজ গন্ধ হাঁসেদের কোমল পায়ের পাতায় আটকে
রাডারের স্কোপে ভেসে ওঠে সুন্দর মাংসল অবয়ব
কবিতা, আসলে তোমার লবনাক্ত শব্দেরা আমায় ছুঁতে চেয়েছে
আর পরিবর্তে তোমার ফাটলে আমার শিকড় গুলো ঢুকিয়ে নেব
----------------distort-----------
উদ্ভিদ প্রেমে মেটাতে বাসন্তী যৌবন
ওরা আমার লিংগ বন্ধক নিয়েছে
কুড়ি বছরের বন্ডে সই করে
সেই থেকে,  সৈনিকের ঘরে শতাব্দীর পর শতাব্দী
উপেক্ষিত স্তূপ পাহাড়
শিখরে জমেছে সংগ্রামী সৈন্ধব লবন
বুকে ব্যথা জমে জমে
বিরাট বিস্ফোরক !
হ্যাঁ হ্যাঁ আমি প্রেম করেছি, বারুদ , বারুদ আমার প্রেম ।

প্রেম -৩

আকাশে জ্যোৎস্না রঙ
বারুদের ঢল ,
বাতাসে সাইরেনের সুর
হেঁটে আসে বৈশাখী হাওয়া,
কিছু বেসামাল ঢেউ খেলা বুক
যেখানে ছুঁয়ে গেছে আমার ক্রুসবিদ্ধ হাত

কি দিয়ে বোঝাই আমি, আমি আর আমি নেই
লুন্ঠিত হয়ে গেছে আমার ঈশ্বর হবার ইচ্ছা
নিশাচর অন্ধকার আমার শরীরের প্রতিটা রোমকুপে
প্রেমিকের উলকি এঁকে দিয়ে গেছে

আগুনের ফেনায় ফেনায় আর্দ্র রঙ্গিন ঠোঁটগুলো
হাঁসেদের পায়ে পায়ে ভেসে ভেসে হারিয়ে যায়
দারুচিনি দ্বীপের ভিতর
গায়ের উপর হুমড়ে পড়ে এক হুক খোলা জংলী পৃথিবীর যুবতী শরীর
হটাৎ অগ্নি বৃষ্টি ! এ কি ইউরেকা ?

হ্যাঁ হ্যাঁ আমি সেই প্রেম করেছি, আবিষ্কার, আবিষ্কার আমার প্রেম ।

বেলাভূমি প্রেম-৪

কাদা আর বালির গোপন অঙ্গে যে যৌবন
জলদস্যুরা লুকিয়ে রেখেছিলো
হঠাৎ কোন দুপুরে
সেই উন্মাদনার রং , গুপ্তধন হয়ে
আমার প্রসারিত কপালে উল্কি এঁকে দিয়ে গেলো...

তোমার বুকে থেকে তখন একফোঁটা রক্ত
ঝরে পড়ল পানসীর মাস্তুলে টাঙ্গানো সাদা ছেঁড়া পালে
তোমার ইজ্জত জানি তখন বেসামাল দামাল ছেলেদের হাতে
ওরা তোমাকে বাবুলের কাছে ফিরে যেতে দিলো না
আঁচলে ঢাকতে দিলো না তোমার প্রিয়তম স্বাধীনতার মাটি ।

বেলাভূমি প্রেম-৫


তবুও তারা বয়ে আসে বেরিং প্রনালী,  সুমাত্রা বা জাভা
মারিয়ানা ট্রেঞ্চে আঁটকে যায় অস্ফুট অরগাজম ভাষা
আর
সোনালী বেলাভূমি জুড়ে শব্দ ফুটিয়ে তোলে লবনাক্ত স্বচ্ছ কেলাস
প্রেম
লিখে মুছে ফেলে আবার
প্রেমিক বালুকাবেলা ।

হ্যা হ্যা আমি সেই প্রেম করেছি, কবিতা, কবিতা আমার প্রেম ।

Thursday, March 6, 2014

বেহতি গঙ্গা

গঙ্গা-সাগর // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

নুড়ি পাথরের সংসারে মৎসের জীবনচক্রে
নথীভুক্ত করলাম হাইবারনেশন

সুগন্ধী নদির নাভিতে পথের ঠিকানা রাখি
মৃগলোভী বালুচর

এরপর পাড়ভাঙা সুবর্ণরেখায় ঢেলে দিই মাতঙ্গীনী হাজরা
লোহিতকণিকাহীন প্লাজমা নীল রোণিত

আর পুন্যার্থীরা
ভীড় বাড়ায় গঙ্গা-সাগর

অন্ধকার ঘুম থেকে জেগে
ঘাস ফুল কবিতাদের বিবাহ বাসরে
বর্ষার কদম ফুল ডাকে
উভচারী মহোৎসব ।


কালবৈশাখী ঝড়

কালবৈশাখী ঝড় // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

বৃষ্টি থেমে গেলে
ধীরপায়ে নেমে আসে ফাঁদ
ক্ষেতের আলপথ ধরে
বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যায়
হরিয়ালি দুধ ...

বিপ্রতীপ ভুমি কোণে
জাল বিছিয়ে সজাগ
অগভীর প্রশাখা নদিতে
আধপেটা দাঁড়িয়ে থাকে
ভুখা জালবাজ

এখানেই সংসার ছিল
শিল্প বিমুখ আরশী নগর
পড়শীর আর এক নাম
ঈশ্বর পাটনি

এখানেই শুয়ে রাত
গর্ভবতী আঁধারের বুকে
ভেনেছিল ধান

মঙ্গল কাব্যের আড়াল থেকে
ঢেকিদের পার সমাপ্ত হলে
মাদলের কাঁপা কাঁপা বুকে
ওঠে কালবৈশাখী ঝড়

শিবের গঞ্জিকাতে
ফিরে আসে বৈদুতিক সিগনাল

নামে অঝোর বৃষ্টি  ...

Tuesday, February 25, 2014

BIODATA

পীযূষকান্তি বিশ্বাস দিল্লির বাঙালী কবি । পৈত্রিক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার অন্তর্গত রাণাঘাট মহাকুমার প্রতাপগড় নামক একটি গ্রামে। জন্ম ১৯৭৫ সালে, মে মাস ।  পিতা জ্ঞানেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও মাতা করুনাময়ী বিশ্বাস । চার ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ তিনি । প্রথমে গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা এবং পরে বহিরগাছি উচ্চবিদ্যালয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহন করেন । ১৯৯৩ তে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন । যদিও এই চাকরি গ্রহন তার উচ্চশিক্ষার পথে কোন বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় নি । ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কার্যরত অবস্থায় তিনি যথাক্রমে বি এ, বি বি এ এবং এম সি এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন । বিমান বাহিনীর পরে তিনি বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করতে থাকেন । বর্তমানে তিনি 'ডেল' কোম্পানীতে কার্যরত রয়েছেন । তিনি বিবাহিত এবং সহধর্মিনীর নাম বিউটি বিশ্বাস । একটি মাত্র পুত্র ৯ বছরের ঋজুস্মিত বিশ্বাস দ্বারকায় ম্যক্সফোর্ট স্কুলে পড়ে ।

পারিবারিক সুত্রে তিনি বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যের প্রতি ছোটবেলা থেকেই উতসাহী ছিলেন । পিতা ভক্ত গীতির লেখক ও গায়ক ছিলেন এবং অগ্রজ পলাশকান্তি বিশ্বাস ও কবি ছিলেন। এই আবহ থেকেই তার কবিতা ও সাহিত্যর প্রতি সেই তখন থেকেই সাহিত্য অনুরাগ । বস্তুত সেই সুত্র ধরেই পরবর্তীকালে পীযূষকান্তি বিশ্বাস কবিতা রচনার প্রতি নিজের ঝোঁক বাড়ান  এবং দিল্লির বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার লেখা বেরতে থাকে। তার বিমান বাহিনীর যুদ্ধ অভিজ্ঞতা এবং আর্মি জীবনের ভাব ভালোবাসা ও দেশপ্রেম ভিত্তিক কবিতাগুলি দারুন জনপ্রিয়তা লাভ করে । তার কবিতাগুলি ব্লগের আকারে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে পাওয়া যায় । তার মধ্যে একটি http://armypoem.blogspot.in . তার ইমেল হল softestpk@gmail.com





পীযূষকান্তি বিশ্বাস দিল্লির বাঙালী কবি ।  দীর্ঘ দিন ধরে দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করে চলেছেন। তার বিমান বাহিনীর যুদ্ধ অভিজ্ঞতা এবং সামরিক জীবনের আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, বঞ্চনার কবিতাগুলি দারুন জনপ্রিয়তা লাভ করে । দিল্লিতে বেশ কয়েকটি প্রত্রিকা সাথে যুক্ত রয়েছেন তার মধ্য কথাঞ্জলী, প্রতিভা পথিকৃৎ উল্লেখযোগ্য । তার লেখা কবিতাগুলি ব্লগের আকারেও বিভিন্ন ওয়েব সাইটে পাওয়া যায় ।

Tuesday, February 4, 2014

ব্যথা

ব্যথা

নিরক্ষরেখা বরাবর
যে দ্রাঘিমাগুলো টেনে দিয়ে গেছো
মাটিতে আমি তার কোন আঁচড় দেখি না
কোন ব্যথার কথাও আমি শুনিনি, এই সব কাটিকুটিতে

যে ব্যাথাগুলো আমি টের পাই লোকাল ট্রেনে বা প্রাইভেট বাসে উঠতে গিয়ে গুঁতো খেয়ে,
একই দৃশ্য প্রিন্ট হয়ে বাড়ি ফিরে আসে
অথচ ব্যথাদের ভীড় আমি দেখতে পাই মাল্টিপ্লেক্সের অডি-টরিয়ামে
কি দারুন পুড়ে যায় কর্ণফ্লেক্স ...
কিংবা মোবাইলের মেসেজ হতে না পেরে কোন কোন ব্যথা রা
বালিশের নিচে ফিরে যায় ।

শুধু রাত ভোরের গরীব রেখাটা কি আশ্চার্য দক্ষতায় ক্রমশ ক্ষীন হতে হতে 
ব্যথাদের উজ্জল মেরুবিন্দুতে বেমালুম মিলিয়ে যায়
আর দিন শুরু হতে না হতেই
ব্যথা-রা আর আদরে-রা ভাগ করে নেয় নিজ নিজ গোলার্ধ ... 

এ সব কি ব্যক্তিগত অনুভূতির উর্ধে  কোন শয়ন প্রনালী ? ?
নাকি বাক্তি বিশেষে আদরের তারতম্যে ব্যথার মুল্যায়ন ? 
নাকি দেশী বাঁধাধরা নদি ও নালার জীবন চক্র নিয়ে
আন্তর্জাতিক ক্যাপাবিলিটি ম্যাচুওরটি মডেল...

তবুও, দেখ, এই এক ভৌগলিক অবকাশ কে ঘিরে
আমার মাথার পাশ দিয়ে ঘুরে আসে সৌরজগত
আর জন্ম নেয় আর একটি শিশু পৃথিবী,

এই ব্যথা আর আদরের বাহিনীকে দেখি ,
চাঁদা, কম্পাস নিয়ে তারা আবার 
বসে গেছে কোন নবজাতকের তুলতুলে মাসুম বুকের উপর।

Friday, January 31, 2014

দিল্লি


দিল্লি

আরো একটু কাছে এসো সবুজ পাতা
মাটির আরো কাছে , লোধি গার্ডেনের উঠানে,
যেখানে সুলতানী সিপাহীদের তারুন্যের গন্ধ এখনও মুচ মুচ,
হাতের উপরে মেলে দিয়ে শাখা প্রশাখায়
সারিবদ্ধ  কুচকাওয়াজের হেঁটে যাওয়া পথে
ভাগ্য লেখো তোমার ।

এই ইন্দ্রপ্রস্থ ,
তরাইন থেকে হেঁটে আসা মোহাম্মদ ঘুরীর তাজা ধুলোছাপ
চুন বালি-শ্যাওলার খাঁজে খাঁজে ভাঙ্গাচোরা ইঁটে ইঁটে এখনো সফদরজংগ,
ইলতুতমীসের  প্রস্তর শহরে করছে  প্রাণ সঞ্চার ।

চৈত্র বসন্তের কর্কশ প্রান্তরে যুদ্ধসজ্জায় সদ্দ্য যুবক বুকে তুঘলকাবাদ
দেখ, ঐ উঁকি মারে বহুদিন ধরে পিপাসিত পোড়ামাটির কুতুব মিনার
ওখানে ছুইয়ে দাও তোমার রক্তিম ঠোট
দেখবে রাত্রির আকাশ তোমাকে দিয়েছে এক রাশ লাজুক জানালা ।

বাবরের যে অহংকার আন্দোলিত করেছিল  পানিপথের ঢেউখেলা সুগন্ধী বুক,
প্রেমিকের দৃষ্টিতে ইতিহাস নিক্ষেপ করলে কালিন্দীকুঞ্জের পাড় ধুয়ে যায়
জেগে থাকে এক পলক অশ্বারোহী বালক রাজকুমার,
স্রোতবাহী যে যমুনা বয়ে নিয়ে এসেছে তার নিকাহ প্রস্তাব
সেই হুমায়ুন টম্বে কবুল করো তোমার রজনীগন্ধা শরীর  ।

দেখবে
পুরানা কিলার বৃদ্ধা আঁধার প্রস্তরীভূত হয়ে উঠেছে কবুতরের ডানা
বিকেলের মেদ হয়ে জমে আছে রাঙা টিউলিপের পরাগে পরাগে
লেকের কলমীর গন্ধে ভরা জলে ভেসে ভেসে
সাদা সাদা ইতিহাস রা পেড়ে গেছে নিষিক্ত ডিম ...
আর পাহারায় পাহারায় রাজপথে রাত্রি জাগা জোনাকিরা
পায়ে পায়ে মার্চে ভ্রমরা হয়ে গেছে ।

Thursday, January 30, 2014

সিগনালের রং

 সিগনালের রং

রাষ্ট্রপতি ভবনের সবুজ বাগিচাটা এই শীতে হলুদ হয়ে যাবে
ট্রাফিক সিগনালে তখনো বসন্তেরা সাদা মাটা জেব্রা ক্রসিংয়ের কাছে
একটাকা দুটাকার কয়েনে মেপে যাবে সেনসেক্স রেখা
সামনেই স্টপ,
দাঁড়িয়ে আছে ইগারা মুর্তির রেড লাইট
পুর্ব দিক বরাবর ফুটপাত ধরে পায়ে হেঁটে গেলে আরো একটা মোড়
সামনে ঘুরে আসে বর্শাহাতে দাঁড়ানো  তিনমুর্তি

(বাকি আটটি মুর্তি বাষ্পীভুত হয়ে হাওয়ায় মিশে গেলে
কামানের আওয়াজে সালামি নেয় দিল্লি )

আশ্চার্য,
দুটি রেড লাইটের মাঝখানে
একটা মাত্র পুলিশ ফাঁড়ি তখনো গুনতে থাকে প্রহর ...

Monday, January 13, 2014

ধুসর স্লোগান

ধুসর স্লোগান // পীযূষকান্তি বিশ্বাস 

অথচ কথা ছিল
এক আকাশ ভেজা ধান ক্ষেত
রোমে রোমে জলের উৎসব
নিজ নিজ ক্যানভাসে
আঁকব শ্রাবণ ,

ঘরে ঘরে নবান্নের ঘ্রান
বিচালির ছাউনিতে ও
ধরা পড়ে চূর্ণির জীবন 
স্রোত

পাড় ভাঙা উচ্ছাস
পাল তোলা নৌকার সাথে
ঢেউ তোলা নদী

সামনে জমে আজ যখন
একটি একটি অক্ষরে
অনেকটা কাল বৈশাখী অন্ধকার

বিদ্যুৎবাহী মেঘও তবু প্রবল বর্ষণে  
ছাতা হাতে নিয়ে আসে 
আটকে রাখতে চায় নিজ নিজ স্রোত

সেই সময়
অসংখ্য বিপ্লবীদের মিছিলে
ধুসর হয়ে যায় স্লোগান

ধুলো হয়ে উড়ে যায়
গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথ... 

Saturday, January 11, 2014

অনেক বৃষ্টি

অনেক বৃষ্টি // পীযূষকান্তি বিশ্বাস

বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
সদ্য চষা ঢেলায় আনে ধোঁয়া
বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
বাজারে বাজারে আনছে আগুন

বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
ভিজে যাচ্ছি না কেউ
ফ্লাটের ছাদে নেড়ে দেওয়া 
পাঁচ শো, হাজার টাকার বান্ডিল

বৃষ্টি অনেক বৃষ্টি
গ্রাম থেকে শহরে
কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে স্রোত
জলের দরে তারা

ঝরে চলেছে প্রবাহ সজ্জায় , বুকে,  পিঠে, বগলে
ওরা মার্চ করে চলেছে
ঘর্মের কণায় কণায়



১১ -১০- ২০১৩
মহাভীর এনক্লেভ

সরল সমীকরণ

সরল সমীকরণ // পীযূষকান্তি বিশ্বাস 

মায়ের গর্ভের মধ্যেই কেউ যদি আমার পাছাতে 
অতি উচ্চশ্রেণীর শব্দাংগ ঠেসে ধরে 
কি জন্ম নেব আমি ?  মুসলমান আঁত
নাকি হিন্দুর পাত ?

মুসলমানের  ঘরে জন্ম নেওয়া কোন পাপ নয়
হিন্দুর ঘরে জন্ম নেওয়াও কোন গর্বের পরিভাষা নয়
তবে কী নিয়ে লিখব এই কবিতা ?

পাপ ? গর্ব ? না জন্ম ?

আড়ালে পাপ করে নিতে পারলে জন্ম হতে পারে গর্বের
গর্বের অন্ধকারে জটলা পাকিয়ে সদর্পে জন্ম নিতে পারে পাপ
মৃত্যুরাও  জন্ম নিতে পারে জ্যামিতির এক্সট্রা উপপাদ্যে...

Thursday, January 2, 2014

একাকী শীতের রাত - ২

একাকী শীতের রাত - ২ // পী্যূষকান্তি বিশ্বাস

এই রাত্রিগুলো আমার বয়ঃসন্ধি দিন ও
মাঠের পর মাঠ এঁকে চলেছি হলুদবরণ শাড়ীতে সবুজ সরিষা-ক্ষেত
বিকেলের রোদও মুছতে পারছে না আমায় ,
গ্রাস করে নিতে পারছে না আমায় কোন দ্রুতপদগতি মৌলোভী অন্ধকার ।

আমায় এই শৈত্য-রাত্রি-আবাসন থেকে টেনে বের নিয়ে যেতে হলে
খুঁজে আনতে হবে একশ আট ডেসিবেল ধুন্ধুমার হুক্কাবার
কয়ারগাছির মরা গাঙের পদ্মনালীর সুগন্ধমাখা সেই কিশোরী চোখ
পৌষের ঘুম ভাঙা খেজুর গাছের বায়বীয় রসময় দিন,
যতক্ষণ না মাটির দেওয়াল থেকে ছিড়ে বেরিয়ে আসে
বাউলের একতারা মেঠো সুর,
যতক্ষন না আমার ফাল্গুনের প্রিয়তম রাত্রিগুলির সেইসব গাছকাটা বুকের
ঘাম মুছে দেয় কেউ।

এরা আর অক্ষর হয়ে হাঁটে না খবরের কাগজের কোন শিরোনামে ।

একলা কবিতাগুলি পড়ে থাক সড়ক-পার ঘুম অন্ধকারে
যে নয়ানজুলিতে ফেলে এসেছি আমি অনেক দিনের অতীত
চাওয়া আর না চাওয়ার শীত মরশুম ।

নতুন দিল্লি
২ জানুয়ারী, ২০১৪


Wednesday, January 1, 2014

একাকী শীতের রাত -১

একাকী শীতের রাত  - ১ //  পী্যূষকান্তি বিশ্বাস

আজ আমি আর একা নই ঘরে,
দরজায় খিল
তোষকে শরীর এলিয়ে শীতগুলো বাড়িয়ে রেখেছে ধোঁয়াটে ঠোট
বাইরে
ঘন কালো অন্ধকারের পাহারা
আকাশ থেকে নেমে আসা
সর্বগ্রাসী মিটমিট নক্ষত্রেরা কেড়ে নিতে চায় শারিরিক ওম ।

আমি টের পাই বৈদ্যুতিক দৈহিক প্রেম
ধমনীতে প্রতিটা লোহিত রক্তকণায় চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতি
জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সুরক্ষা বলয় ।

এ রাজ্য আমার,
এ দেশ আমার
সোনার কিংবা আরো মুল্যবান কিছু
কিছুতেই এ নয় মধ্যরাতের আবছায়ায় জেগে থাকা ল্যাম্প-পোষ্ট
কিছুতেই এ নয় আধাঘুমের একাকী বালিশ-সাহিত্য
প্রেম-ভিক্ষা-পাত্র ।

বরং,
ব্যস্ত পেট্রোল পাম্প আর অগ্নি সম্ভবা দাহ্য কিছু
প্রতিদিন ঘরে ফেরা নিজস্ব ঘর-বিশ্বাস
তিলে তিলে গড়ে ওঠা স্বপ্ন-সাম্রাজ্য
একটি একটি অক্ষরে আটকে থাকা মহাকর্ষ সূত্র ।

নতুন দিল্লি
১ জানুয়ারী, ২০১৪